হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে ভয়াবহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বুধবার, জুন ২৩, ২০২১


স্টাফ রিপোর্টার : নোয়াখালীর হাতিয়া  উপজেলা শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কর্তব্যকর্মে অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়তি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। চার মাস আগে স্থানীয় সাংসদ তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাদেরকে দ্রুত চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে বদলীর অনুরোধ জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ডিও লেটার দেন। হাতিয়া সাংসদের ডিও লেটারের ছায়ালিপি, শিক্ষক, শিক্ষক নের্তৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে এসব খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ২ মার্চ ২৭৩, নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের সাংসদ আয়েশা ফেরদাউস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া ডিও লেটারে উল্লেখ করেন যে, ‘হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী সোহরাব উদ্দিন ও হিসাব সহকারী মিরাজ উদ্দিন ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে হাতিয়ায় কর্মরত রয়েছে। তাদের বাড়ি হাতিয়ায় (নিজ উপজেলা) হওয়ায় তাদের অনিয়ম সীমাহীনভাবে বাড়ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুষ গ্রহন এবং সরকার বিরোধী জামাত-শিবিরের লোক নিয়ে অফিসে অড্ডা দেওয়া, যথাসময়ে অফিসে না আসা, সেবা প্রত্যাশীদের সাথে রুঢ় ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা তাদের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে যা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। আমার এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করা, সেবা প্রত্যাশীদের চাহিত সেবা যথাযথভাবে দেয়া, সর্বোপরি সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন রাখার স্বার্থে অতি দ্রুত তাদেরকে চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে বদলীর অনুরোধ করা হলো’।

৭ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) আব্দুল আলীম হাতিয়ার সাংসদের ডিও লেটারে আনিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ করে চিঠি দেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির হাতিয়া শাখার সভাপতি আকম আবদুল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল ও প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন এমরান এবং ভূক্তভোগী শিক্ষকগন ঐ দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আরো অনেক অভিযোগ করেন।

কয়েকশ শিক্ষকের সার্ভিস বুক হালফিল না থাকায় ইএফটি করা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষকদের অভিযোগ অফিস সহকারীকে একাধিকবার টাকা দিলেও সার্ভিস বুকগুলো ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ফিক্সেশান করা হয়নি। দুই কর্মচারীর কেউই শিক্ষকদের পেনসন বিল, বিভিন্ন বকেয়া বিল ও সার্ভিস বুক হালফিলের কাজ করেন না। নির্দিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক এ কাজগুলো করেন। শিক্ষকদের সার্ভিস বুকের লেখাগুলো ঐ শিক্ষকদের হাতের।

জানা যায় দুই কর্মচারীই দীর্ঘদিন হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উচ্চমান সহকারী সোহরাব উদ্দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন, হিসাব সহকারী মিরাজ উদ্দিন এ ব্যাপার কথা বলতে রাজি হননি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভবরঞ্জন দাস কোন মন্তব্য করেননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে, শীঘ্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,২০১৭ সালে হাতিয়ার শতাধিক শিক্ষকের বদলীর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয়। ৩০জন শিক্ষক বদলীতে শিক্ষকদের মাস বিবরনীগুলোতে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংখ্যা বেশি দেখিয়ে প্রতিস্থাপক ছাড়া বদলীর প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়াও ছিল নিয়মবহির্ভূত মৌখিক ও সাময়িক বদলী এবং সংযুক্তির আদেশ। কোন বদলীতে ফাইল নোট নেওয়া হয়নি এব্ং পত্র প্রেরণ রেজিষ্টারে সঠিকভাবে স্মারক নম্বর লেখা হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঐ শিক্ষকদেরকে নীতিমালাবহির্ভূত বদলীর সুপারিশ করেন। শিক্ষকগন প্রতিস্থাপক না দিয়ে বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করায় বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণিকার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যহত হয়।

২০১৭ সালে সাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি উপরোক্ত বিধিবহির্ভূত শিক্ষক বদলীর আদেশ বাতিলের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করেন। তখন দৈনিক নয়া দিগন্ত (২২মার্চ,২০১৭) ও দৈনিক সমকাল (২৭মে,২০১৭) সহ বিভিন্ন পত্রিকায় হাতিয়ায় শিক্ষক বদলীতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হয়। তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী ঐ বছরের শিক্ষকদের বদলীর প্রস্তাবনায় দশটি অনিয়মের অভিযোগ এনে তৎকালীন হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে চিঠি দেন। তবে কোন বদলীর আদেশ বাতিল হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, ‘আমি ২০১৭ সালে হাতিয়ায় বিধিবহির্ভূত শিক্ষক বদলীর অভিযোগসমূহ তদন্ত করি। তদন্তে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরের তদন্ত ও শৃংখলা সেলে যথাসময়ে জমা দিয়েছি’। জানা গেছে ঐ তদন্ত প্রতিবেদন চার বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।

একাধিক শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে,  হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী সোহরাব উদ্দিন ও হিসাব সহকারী মিরাজ উদ্দিন ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে হাতিয়ায় কর্মরত রয়েছে। তাদের বাড়িও হাতিয়ায় (নিজ উপজেলা) হওয়ায় তারা কাউকে পরোয়া না করে তাদের অনিয়ম সীমাহীনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের কাছ থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নাম বিক্রি করে বিভিন্ন অজুহাতে  প্রতিনিয়ত ঘুষ গ্রহন করছেন। ক্ষুদ্র মেরামত, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ের ভুয়া তালিকা, নিয়মবিধি লংগন করে শিক্ষক বদলি, রুটিন মেইনটিনেন্স, স্লিপ, ইএফটিতে চাঁদা আদায়, গ্রেডেশনসহ সকল কাজে অফিস সহকারীদেরকে ঘুষ দেয়া লাগে। শিক্ষকরা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো সরাসরি জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।

 


বুয়েট উদ্ভাবিত অক্সিজেট মেশিন ব্যবহারের অনুমোদন

নোয়াখালীতে আরও ২২৮জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

বেগমগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,স্বামী আটক

হাতিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহাজের লষ্কর নিহত, বাবুর্চি আহত

দেশে করোনায় ২৩৭ মৃত্যু, মোট মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়াল

নিঝুম দ্বীপে বরের বয়স ৭১, কনের আত্মহত্যা

ভাসানচরে সাগর কুলে যুবকের মরদেহ, ৪ রোহিঙ্গা যুবক আটক

সাগরে ভাসতে থাকা ট্রলার থেকে ১১ জেলে উদ্ধার

একনেকে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

হাতিয়ায় কাউন্সিলরের মারধরের ২দিন পর ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ

নোয়াখালীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্যের মোড়ক উন্মোচন

চাটখিলে নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গৃহ শিক্ষক আটক

নোয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩০.৩৮ শতাংশ, মৃত্যু ১

টিকা প্রদানে উৎসাহিত করতে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

করোনায় রেকর্ড ২৫৮ জনের মৃত্যু

এই সম্পর্কিত আরো