নোয়াখালী পৌরসভায় শেষ মুহূর্তে নৌকা বনাম ‘বিদ্রোহী’র লড়াই

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২২

 

নোয়াখালী : দেশের প্রথম শ্রেণির কয়েকটি পৌরসভার মধ্যে নোয়াখালী পৌরসভা একটি। এ পৌরসভায় আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর মাত্র একদিন বাকি। শেষ পর্যায়ে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণা জমে উঠেছে। সাত মেয়র প্রার্থী দিনভর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ভোটের আমেজে পৌরবাসীও। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদ উল্যাহ্ খান সোহেলের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে থাকলেও তাঁর মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে। এই অস্বস্তির মূলে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী লুত্ফুল হায়দার লেনিন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন লুত্ফুল হায়দার।

ঘটনার সূত্রপাত ১০ জানুয়ারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেদিন বরিশাল কালেক্টরেটের সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল নোয়াখালীতে লুত্ফুল হায়দারের সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নেয়। এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেলা আওয়ামী লীগ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে। বিদ্রোহী প্রার্থী লুত্ফুল হায়দারের বড় ভাই জসিম উদ্দিন হায়দার বরিশালের জেলা প্রশাসক।

নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘সোহেল একজন পরীক্ষিত নেতা। বিগত সময়ে যথেষ্ট কাজ করেছেন। তাঁকে যোগ্য হিসেবে নেত্রী নৌকা তুলে দিয়েছেন। আমরা সবাই কাজ করছি। তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।’

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক খায়রুল আনম সেলিম বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। তারা কালো টাকা দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চায়। যারাই ষড়যন্ত্র করুক, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রকে বলব।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মোবাইল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী লুত্ফুল হায়দার লেনিনের পক্ষে শহরে প্রচারণা রয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে দেখা না গেলেও নোয়াখালী পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা তাঁর পক্ষে কাজ করছেন। এই খবরে কেন্দ্র থেকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। লুত্ফুল হায়দার লেনিন বলেন, ‘আমি জনগণের প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন না পেলে সাধারণ কর্মীরা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে, জনমত আমার পক্ষে আছে। কালো টাকা আমার নেই, দেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না।’ তিনি বলেন ‘গত ১০ জানুয়ারি বরিশালের কালেক্টরেট অফিসের কে বা কারা এসেছে, আমি তাদের চিনি না। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এই অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমার ভাইকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার প্রচার গাড়ি ও অফিস ভাঙচুর করেছে। আমার নিরীহ সমর্থক ও লোকদের মারধর করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা তারা নিচ্ছে না।’

নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শহিদ উল্যাহ্ খাঁন সোহেল বলেন, আমার দায়িত্বামলে বিগত ৫বছরে সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ যে উন্নয়ন হয়েছে, তা গেল কয়েক যুগেও হয়নি। গত পাঁচ বছরে সরকারের সকল উন্নয়ন হয়েছে এ পৌরসভায়। এখানে নাগরিক সুবিধা প্রায় নিশ্চিত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার দরিদ্র পরিবার আজ স্বাবলম্বী। তারপরও সময় সল্পতার কারণে অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় নির্বাচিত হলে এ পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করারও অঙ্গিকার করেন এ প্রার্থী। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, একটি মহল এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্র করছে, জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।’

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগামী ১৬ জানুয়ারির  নির্বাচনকে ঘিরে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোর থেকে নিজের প্রতীক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নিজের মার্কার জয় নিশ্চিত করতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন, প্রতিটি ভোটারের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে প্রচারণা। ভোটারসহ পৌরসভায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। চায়ের দোকানসহ বড়-বড় শপিংমল, মার্কেট, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কে হচ্ছেন পৌর পিতা তা নিয়ে অংক কষছেন ভোটাররা। শেষ মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে নৌকার প্রার্থী সহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকে লুৎফুল হায়দারের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এদিকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাচ্ছেন অন্যান্য প্রার্থীরাও।

নোয়াখালী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৭, কাউন্সিলর পদে ৬৩ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পৌরসভার বর্তমান মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাইল ফোন প্রতীকে লুৎফুল হায়দার। এছাড়াও  জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে প্রচারণা করছেন সামছুল ইসলাম মজনু, হাত পাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র নারিকেল গাছ প্রতীকে আবু নাছের, জগ প্রতীকে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কম্পিউটার প্রতীকে সহিদুল ইসলাম প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাঁন বলেন, ‘আমার সময়ে নোয়াখালীতে যত নির্বাচন স্থানীয় সরকারের হয়েছে, কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। পৌরসভা নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হবে না।

বরিশাল থেকে আসা কিছু কর্মচারী এখানে ভোটের প্রচারণায় এসেছেন জেনে নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ওমিক্রনের লক্ষন কী

হাতিয়ায় ১৪০ মণ জাটকা জব্দ, এতিমখানায় বিতরণ

বেগমগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি ইয়াবাসহ গ্রেফতার

অন্য এক কক্সবাজার হাতিয়ার নিমতলী সমুদ্র সৈকত

নোয়াখালীতে একদিনে শত জনের শরীরে করোনা শনাক্ত

করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্তের হার ২৮.০২

হাতিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় জরিমানা ও লিফলেট, মাস্ক বিতরণ

করোনায় আক্রান্ত এমপি একরামুল

এক দিনে শনাক্ত সাড়ে ৯ হাজার, মৃত্যু ১২

লক্ষ্মীপুরে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে হত্যা, পিতা-পুত্রের যাবজ্জীবন

দুই চুলা গ্যাসের দাম ২১০০ করার প্রস্তাব

সেনবাগে জুয়ার আসরে অভিযান, আটক ১৩  

বেগমগঞ্জে ১০ বছর পর ধরা খেল মাদক মামলার আসামি

হাতিয়ায় জাটকা ইলিশসহ কারেন্ট জাল জব্দ 

এই সম্পর্কিত আরো