নুসরাতের মায়ের জবানবন্দিতে এডিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০১৯

nrrshat-big-20190421145658

l

ফেনী : ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম-রাজস্ব) পিকে এনামুল করিমের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান রাফি ও তার মা শিরিন আক্তার। কিন্তু ন্যায়বিচারের পরিবর্তে সে সময় নুসরাতের বিরুদ্ধে ‘নাটক’ সাজানোর অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া নুসরাতের মৃত্যুর আগে তার মা শিরিন আক্তারকে হুমকি দিয়ে এডিএম বলেছিলেন, ‘আপনারা প্রিন্সিপাল সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন, তা প্রমাণ করতে না পারলে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রিন্সিপালের লোকজন ৫০ লাখ টাকার মানহানি মামলা করবে।’ শিরিন আক্তার আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষের কক্ষে আমার সামনে নুসরাত অজ্ঞান হয়ে গেলে তার মুখে পানি ছুড়ে মেরেছিলেন সোনাগাজী থানার এসআই ইকবাল।’ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার লোকজনের দেওয়া আগুনে পুড়ে নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর পর গত ১৮ এপ্রিল তার মা পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

জবানবন্দিতে শিরিন আক্তার বলেন, ‘৪ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে আমি, আমার মেয়ে রাফি, ছেলে নোমান, মাদ্রাসা কমিটির সভাপতিসহ ফেনী জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিকে এনামুল করিমের অফিসে গিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগটি জানাতে চাই। তখন এডিএম বলেন, ‘এখন কেন এসেছেন? আপনারা তো মামলা করে ফেলেছেন। মামলা করার আগে আসতেন, তা হলে দেখতাম কী করা যায়। এখন মামলায় যা হবে তা-ই হবে।’ তখন রাফি এডিএমকে বলেন, ‘আপনি আমার বাবার মতো। আপনি আমার কথাগুলো শোনেন। রাফি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে তার অভিযোগটি জানানোর চেষ্টা করেন এডিএমকে।’

তখন এডিএম বলেন, ‘প্রিন্সিপাল তো খারাপ, তা সবাই জানে। তুমি তার কাছে গেছ কেন?’ উত্তরে রাফি বলেন, ‘আমি তো ইচ্ছা করে যাইনি। পিয়নকে দিয়ে প্রিন্সিপাল আমাকে ডেকে নিয়ে গেছেন।’ তখন এডিএম বলেন, ‘গেছই যখন, তখন হজম করতে পারলে না কেন? তোমার বাবাকে মাদ্রাসায় বসানোর জন্য এ রকম নাটক সাজিয়েছ?’

এদিকে জবানবন্দিতে দেওয়া নুসরাতের মায়ের এসব তথ্য অস্বীকার করে এডিএম এনামুল করিম গত শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছি! আমি এসব কিছু বলিনি। আমি তো মামলা করায় তাদের ধন্যবাদ দিয়েছিলাম। তারা যেন বিচার পান, সে কথা বলেছিলাম।’

এডিএম ছাড়াও নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষ নিয়ে সোনাগাজী থানার এসআই ইকবাল হোসেনের কর্মকা-ের কথা। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমি শিরিন আক্তার (৪৬)। স্বামী একেএম মুসা মানিক। গ্রাম চরচান্দিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড, সোনাগাজী পৌরসভা। আমি গৃহিণী। নুসরাত রাফি আমার একমাত্র মেয়ে। তা ছাড়া আমার ৩ ছেলে আছে। রাফি তৃতীয় সন্তান।

৬ মাস আগে বেলা ৩টার দিকে রাফি মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করছিল। আমি তাকে একাধিকবার জিজ্ঞেস করলে জানায়, ওইদিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তাকে ক্লাসরুমে খুঁজতে গিয়ে পাননি। কিছুক্ষণ পর রাফি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার পর অধ্যক্ষ তাকে দেখে ‘কথা আছে’ বলে থামান। এ সময় রাফি অধ্যক্ষকে বলে, তার সঙ্গে কোনো কথা নেই। তখন সিরাজ-উদ দৌলা রাফির ওড়না ধরে টান দেন। এ ঘটনায় রাফি কান্নাকাটি করে বলে আমাকে জানায়।’

‘কিছুদিন আগে আলিম টেস্ট পরীক্ষার সময় রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজ তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তার কথামতো কাজ করার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে পরীক্ষার ফি দেওয়া লাগবে না বরং আরও টাকা দেওয়া হবে বলে জানান। অধ্যক্ষ ওইদিন রাফিকে বলেন, তুই তো অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলিস। আমার সঙ্গে কথা বললে সমস্যা কোথায়? প্রত্যুত্তরে রাফি অধ্যক্ষকে বলে, আপনি হলেন আমার শিক্ষক, বাবার মতো। অন্য ছেলেদের সঙ্গে আপনার কি তুলনা হয়?’

‘ওই ঘটনার পর গত ২৭ মার্চ বেলা ১১টার দিকে আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাসায় ফেরার আগ মুহূর্তে আমার ছেলে নোমানের কাছে জানতে পারি, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা এবার রাফির গায়ে হাত দিয়েছে। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার ছোট ছেলে রায়হানকে নিয়ে সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় আসি এবং অধ্যক্ষের রুমে যাই। অধ্যক্ষকে তার রুমে পেয়ে আমি বলি, কোন সাহসে তুমি আমার মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছ? এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে অধ্যক্ষ আমাকে বলে, তুমি কোন সাহসে অফিসে ঢুকেছ? এটা অফিস রুম। তখন আমি বলি, এটা অফিস রুম নয়, এটা ব্যভিচারের রুম। তখন অধ্যক্ষ একজনকে ফোন দেন এবং কিছুক্ষণ পর সোনাগাজী থানা থেকে এসআই ইকবাল আসেন। এসআই এসে জিজ্ঞেস করেন, এখানে কী হয়েছে? আমি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে দেখিয়ে বলি যে, তাকে জিজ্ঞেস করেন। তখন আমাকে দেখিয়ে অধ্যক্ষ বলে যে, এরা আমার অফিসে এসে হামলা করছে নাটক সাজিয়ে।’

শিরিন আক্তার আরও বলেন, ‘আমি পুলিশকে বলি, ওনাকে জিজ্ঞেস করেন আমার মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে কেন? এ কথা বলার পর অধ্যক্ষ হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে ওপরের দিকে তাকিয়ে অন্যরকম ভাণ দেখান।’

এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ছাগলনাইয়ার জব্বারিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা মানববন্ধন করেছে। ছাগলনাইয়ার মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বটতলী বাজারে গত ২১ এপ্রিল দুপুরে নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব অপরাধীর দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চাঁদগাজী জব্বারিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে মাদ্রাসাটির শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের হাতে কামড় দিয়ে হ্যান্ডকাপসহ পালালো আসামি

সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন

হাতিয়ায় বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

 আটকে গেল নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন ১৯ জন

নোয়াখালীতে জেলা পরিষদ নির্বাচন: ৬০ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

এডিবি থেকে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নোয়াখালীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত,শিক্ষার্থী ৪৩হাজার

  কোম্পানীগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

লন্ডন-নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি পারভেজকে গ্রেফতারে জাসদের নিন্দা

শারমিনের গল্প : একটি সাধারণ মেয়ের আত্মকথন (পর্ব-১৬)

কাল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের সন্দেহে নোয়াখালী জাসদের সভাপতি কারাগারে

এই সম্পর্কিত আরো