নৌপথে নাব্যতা সংকটে ঢাকা-হাতিয়া রুটে লঞ্চ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

ইসমাইল হোসেন কিরন : লঞ্চের মেঝেতে পড়ে আছে অসুস্থ্ ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। পাশে বিমূর্ষমূখে দাড়িয়ে আছে ত্রিষোর্ধ্ব এক যুবক। বৃদ্ধ মাথার পাশে একই বয়সের এক নারীকে বসে থাকতে দেখা যায়। সবাই বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে নদীর দিকে কখন জোয়াার আসবে। পাশে গিয়ে প্রশ্ন করলে যুবক সাখাওয়াত হোসেন জানায়, অসুস্থ বাবাকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরছিলেন। ভোর রাতে তাদেরকে বহনকারী ঢাকা থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা লঞ্চটি ডুবোচরে আটকা পড়লে তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকাল ১১টার দিকে জোয়ার আসলে তারা ঘাটে যেতে পারবে। একদিকে অসুস্থ বাবার আহাজারি অন্যদিকে লঞ্চের মধ্যে খাওয়ার দোকান বন্ধ থাকায় সাথে থাকা বোনের দুই শিশু সন্তান নিয়ে খুবই খারাপ সময় পার করতে হচ্ছে তাদের।

ত্রিষোর্ধ্ব সাখাওয়াত হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বুডিরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামে। সাখাওয়াত হোসেনের মত এই সমস্যা প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হচ্ছে ঢাকা- হাতিয়া রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী সাধারনের। গত ছয় মাস ধরে প্রতিদিন ঢাকা থেকে হাতিয়ার উদ্দোশ্যে ছেড়ে আসা বড় তিনতলা বিশিষ্ট লঞ্চ গুলো নাব্যতা সংকটের কারনে ডুবোচরে আটকা পড়ছে।

এই ডুবোচর গুলোর অবস্থান মুলত ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার পূর্ব পাশে, নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার উপজেলার তমরদ্দি ঘাটের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে বদনার চরের সন্নিকটে মেঘনা নদীতে। এই ডুবো চরের কারণে সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল প্রায়ই ব্যাহত হয়। প্রায়ই লঞ্চ আটকে যায় চরে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। অনেক সময় ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল চরে আটকে পড়া লঞ্চেই নষ্ট হয়ে যায়।  ডুবো চরে আটকা পড়লে দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না।

সরেজমিনে ডুবোচরে আটকে যাওয়া অবস্থায় এমভি তাসরিফ-১ লঞ্চে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চের নিচতলায় ইঞ্জিন রুমের পাশে ৮-১০ বছর বয়সের এক বাচ্ছাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক মহিলা। আলাপ কালে কোহিনুর আক্তার নামে ওই মহিলা জানায়, ঢাকার মিরপুরের বসবাস করেন তিনি। সে এসেছে হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা গ্রামে বাবার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে। দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান তখন সময় ১০টা কিন্তু কখন বাড়ি পৌছবে তার সঠিক সময় জানা নেয় তার । রাতে লঞ্চে খাওয়ার ব্যবস্থা হলেও, লঞ্চ আটকে যাওয়ায় সকালে লঞ্চের দোকানীরা দোকান বন্ধ করে ঘুমাচ্ছে। তাই চাইলেও কেউ কোন কিছু কিনতে পারছে না। খাওয়ার নিয়ে কষ্ট করতে হচ্ছে তাদেরকে। এতে তিনি সহ সাথে  থাকা শিশুসহ অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। ছোট ছোট ট্রলারে অনেক যাত্রীকে তীরে যেতে দেখেছেন তিনি কিন্তু সাথে শিশু থাকায় তিনি যেতে সাহস করেননি।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া মুলত নদী বেস্টিত এখানে প্রায় সাত লাখ লোকের বসবাস। এ উপজেলার মানুষের চলাচলে নদী পথই একমাত্র ভরসা। এর মধ্যে ঢাকা-হাতিয়া রুট, হাতিয়া -চট্রগ্রাম রুট ও হাতিয়ার নলচিরা- চেয়রম্যান ঘাট রুটে যাত্রী পারাপার হয় কিছু সরকারী ও কিছু বেসরকারি যানবাহনে।

এর মধ্যে ১৯৯৭ সাল থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাথে রাজধানী ঢাকার সরাসরি লঞ্চ সার্ভিস চালু করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রথম দিকে একটি প্রতিষ্ঠান এই দুটি লঞ্চ দিয়ে যাত্রীসেবা দিলে গত তিন বছর আগ থেকে এই রুটে আরো একটি প্রতিষ্ঠান তাদের লঞ্চ সার্ভিস চালু করে। প্রতিদিন হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট থেকে দুটি লঞ্চ দুপুর ১টার সময় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আবার প্রতিদিন বিকাল ৬টার সময় ঢাকার সদরঘাট থেকে দুটি লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

হাতিয়া থেকে যে কয়েকটি নৌ রুটে যাত্রী পারাপার হয় এর মধ্যে ঢাকা-হাতিয়া রুটটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন । কারন এই রুটে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন শহস্রাধিক যাত্রী আসা যাওয়া করে। এছাড়া মাছ, চাল, আলু হাতিয়ায় উৎপাদিত খেসারি ডাল, বাদামসহ প্রচুর মালামাল আনা নেওয়া করে ব্যবসায়ীরা। এই কারনে ঘাটের পাশে তমরদ্দি বাজার হয়ে উঠেছে মুদি মালের বিশাল আড়ৎ ব্যবসা কেন্দ্র। আলাপকালে তমরদ্দি বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি হাজি ইব্রাহীম (৬০) জানান, ঢাকা থেকে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাটে আসা লঞ্চের কারনে এখন তমরদ্দি বাজার বিশাল পাইকারি বাজারে পরিনত হয়েছে। এখানে ছোট বড় প্রায় ৫০টি আড়ৎ রয়েছে। যা থেকে হাতিয়ার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা মালামাল ক্রয় করে থাকে। নাব্যতা সংকটের সঠিক সময়ে লঞ্চ ঘাটে না আসায় এই বিশাল ব্যবসা কেন্দ্র একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।

হাতিয়া- ঢাকা রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান- ৩ এর মাস্টার বজলুর রহমান জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই জায়গায় বিআইডব্লিউটিএর লোকজন নদীতে ড্রেজিং করতে আমরা দেখেছি। কিন্তু কিছুদিন ড্রেজিং করে তারা চলে যায়। তাদের সাথে আমাদের কোন সমন্বয় ছিলনা। তারা তাদের মত করে ড্রেজিং করে চলে যায়। এর সুফল আমরা পেয়েছি মাত্র একমাস এর পরে আবার নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

তমরদ্দি ঘাট ইজারাদার প্রতিনিধি আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, লঞ্চ চলাচলের এই পথে অসংখ্য ডুবো চর রয়েছে। ভাটির সময় কোন কোন চর জেগে ওঠে, আবার জোয়ারে তলিয়ে যায়। আর এই চরেই আটকা পড়ে লঞ্চ। এতে রাতের বেলা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে লঞ্চ চলাচল শতভাগ নিরাপদ করার দাবি তার।

এ বিষয়ে আলাপকালে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম জানান, এই ডুবোচরটি নিয়ে আমরা একটি সার্ভে করেছি । তাতে দেখা যায় আমাদের সবচেয়ে বড় ড্রেজিং ইঞ্জিনটি ব্যবহার করতে হবে এখানে। সে মোতাবেক এটি পাঠানো হয়েছে হাতিয়াতে। কিন্তু এর আগে সন্দ্বীপের কাছাকাছি একটি নৌপথ ড্রেজিং করতে গিয়ে এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। আসছে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তা মেরামত করা যাচ্ছে না। তাই এই বছর এই ড্রেজিং করা মনে হয় সম্ভব হবে না।

 

আ’লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকে পেটানোর অভিযোগ

৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার

অপশক্তি প্রতিহত করে সোনার বাংলা গড়াই ৭ মার্চের শপথ: কাদের

প্রথমবার ৭ মার্চ পালন, মুজিব বন্দনায় বিএনপি

৭ মার্চের ভাষণই প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

কে কত বড় নেতা,সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

কোম্পানীগঞ্জে একটা পাগল হইছে: সাংসদ একরাম

হাতিয়া থানার উদ্যোগে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ৭ মার্চ পালন  

কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় যুবলীগ কর্মি আটক

একদিনে করোনায় আরো ১১ মৃত্যু

নিজের ‘অপরাধের’ কথা জানালেন কাদের মির্জা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নোয়াখালীতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন

হাতিয়ায় ৭ মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা

এই সম্পর্কিত আরো