অন্য এক কক্সবাজার হাতিয়ার নিমতলী সমুদ্র সৈকত

শনিবার, জানুয়ারি ২২, ২০২২


হাতিয়া : নিমতলী, মেঘনা নদীর কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এক বিস্তীর্ণ বালুময় সৈকত। বিশাল আকৃতির এত সুন্দর সৈকত কক্সবাজারের পর দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়ন থেকে ৬ কিলোমিটার পূর্ব দিকে নিমতলী সমুদ্র সৈকত এর অবস্থান । গুগল ম্যাপ এর তথ্য অনুসারে নিমতলী সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় চার (৩.৭) কিলোমিটার। এর আশপাশে আরো অনেক ডুবোচর আছে যেগুলো জেগে উঠলে সৈকতের দৈর্ঘ্য আরো বিস্তৃত পাবে। একদিকে বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ বন। এখানে সবকিছুরই মিশ্রণ আছে। এ সমুদ্র থেকে একসাথে অবলোকন করা যায় সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত। ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে দিয়ে আঁকাবাকা পথ, সবুজের বেষ্টনীতে আবদ্ধ সবুজ ঘাসের চাদরে বিস্তৃত সুবিশাল মাঠ, ধবধবে চিকচিকে বালি,যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। কেওড়াবাগান ও বিশাল সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি নিমতলী সৈকতে রয়েছে লাল কাঁকড়া, নানারকম মাছ, ঝিনুক যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। তীরে বাঁধা নৌকা, পাখিদের কিচিরমিচির, সারি সারি কেওড়া বন আর ঢেউয়ের ছন্দময় কলকল ধ্বনিতে কোমল স্পর্শ। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। তাইতো সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে জ্ঞান আহরণে ছুটে আসেন ভ্রমনপিপাসু মানুষেরা।
কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা নিমতলী সৈকত ভ্রমণে আসছেন। সম্প্রতি এখানে

সৈকতটিকে আকর্ষনীয় করার লক্ষে বিভিন্ন উন্নয়ন করিকল্পনা নিয়ে পরিদর্শনে হাতিয়ার এমপি আয়েশা ফেরদাউস ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী


খাওয়ার হোটেল, সৈকতে বসার জন্য চেয়ার, ঘোড়া এবং রাত যাপনের জন্য তাবুর ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। চোখ ঝুড়ানো মনোরম এ সমুদ্র সৈকতে সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে রঙ্গিন ছাতার নিচে হেলান দিয়ে বসবার ব্যবস্হা। খাবারের জন্য রয়েছে স্নানীয় রেষ্টুরেন্ট । যেখানে বিরিয়ানি, দেশীয় খাবার, সামুদ্রিক মাছসহ নানা ধরনের খাবারের সু-ব্যবস্থা । সমুদ্র তীরেই ঘুড়ে বেরানোর জন্য সী-বাইক।নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ, আধুনিক টয়লেট। এছাড়াও জোরদাড় করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্হা। নিমতলীর আশ পাশের অধিবাসীদের প্রায় সবারই পেশা মৎস্য শিকার। জাহাজমারা নিমতলীর মানুষ নিতান্ত সহজ-সরল, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই বীচকে স্থানীয়ভাবে তত্বাবধান করার জন্য নিমতলী উন্নয়ন কমিটি নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন গঠন করা হয়েছে।
যাতায়াত : নিমতলী ভ্রমনে বাহন হিসেবে মোটর সাইকেল সবচেয়ে উত্তম। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত হতে নোয়াখালী সোনাপুর হয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট ভায়া হাতিয়া নলচিরা ঘাট হয়ে সরাসরি নিমতলী সমুদ্র সৈকতে আসার সুযোগ রয়েছে।”ঢাকা সদর ঘাট হতে হাতিয়ার তমরুদ্দি ঘাট ভায়া জাহাজমারা নিমতলী” “ঢাকা টু নোয়াখালী সোনাপুর ভায়া হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট”
“চট্টগ্রাম সদরঘাট হতে লঞ্চযোগে সরাসরি হাতিয়া” চেয়ারম্যানঘাট টু(স্প্রিড বোট/বোট/স্রী-ট্রাক) হাতিয়া নলচিরাঘাট টু(বাস/সিএনজি/হোন্ডা) জাহাজমারা নিমতলী সী বিচ।
হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিমতলীর দূরত্বঃ
হাতিয়া উপজেলার ১নং হরণী ইউনিয়ন, বয়ারচর থেকে নিমতলী এর দুরত্ব ৩৩.৪ কিলোমিটার।
৩নং সুখচর ইউনিয়ন থেকে ৩২.১ কিঃমিঃ
নলচিরা ইউনিয়ন থেকে ৩০.৯ কিঃমিঃ
চরকিং ইউনিয়ন থেকে ২৪.৮ কিঃমিঃ
ওছখালী থেকে ১৮.১কিঃমিঃ
তমরদ্দি ইউনিয়ন থেকে ২২.২ কিঃমিঃ
সোনাদিয়া থেকে ১৩.৫ কিঃমিঃ
বুড়িরচর ইউনিয়ন থেকে ১১.৪ কিঃমিঃ
জাহাজমারা থেকে ৬.৬০ কিঃমিঃ
নিঝুমদ্বীপ থেকে ১১.৬ কিঃমিঃ
দর্শনীয় স্থানঃ সারি সারি কেওড়া গাছ, ম্যানগ্রোভ বন, বনের পাশে সুবিশাল কতক মাঠ, বিশাল সমুদ্র সৈকত, লাল কাঁকড়া। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত এবং আশপাশের এলাকা ও পাখিদের গুঞ্জন।
কিছু সমস্যা ও তার সমাধানঃ
জাহাজমারা থেকে নিমতলী যাওয়ার পথে সড়ক অতটা টেকসই নয়। জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে


বলতে চাই নিমতলী প্রবেশের মুখে সংযোগ সড়ক করে দেয়া এবং মূলসড়কের সংস্কার করলে যাতায়ত ব্যবস্থায় কোনো ভোগান্তি থাকবে না। অনেকে বীচে চিপসের প্যাকেট, ড্রিংস কিংবা পানির বোতল ফেলেন যা বীচের সৌন্দর্য নষ্ট করে। বীচের এক পাশে বড় ঝুড়ি অথবা ডাস্টবিন স্থাপন করা প্রয়োজন। বীচের যে অংশে লাল

দূর্লভ প্রজাতির লাল কাঁকড়া


কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ সেখানে মোটরসাইকেল না চালানোর সচেতনা ফলক তৈরী করা প্রয়োজন ফলে লাল কাঁকড়ারা সুরক্ষিতভাবে বেঁচে থাকবে । বীচ এলাকায় কিছু সৌর স্ট্রীট লাইট স্থাপন করলে রাতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় জনগন ও যারা ক্যাম্পিং করবে তাদের জন্য সুবিধা হবে। বীচে কয়েকটি গভীর নলকূপ, শৌচাগার, ও সানিটেশন স্থাপন একান্ত জরুরী।
সবমিলিয়ে নিমতলীর মনোরম অপরুপ প্রাকৃতিক পরিবেশ যা মন ছুঁয়ে যায় ভ্রমনপ্রেমী পর্যটকদের। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নিমতলী হয়ে উঠতে পারে আরেকটি কক্সবাজার। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে কক্সবাজারের চেয়ে কোন অংশে কম নয় এটি। এখানে প্রকৃতির সব সৌন্দর্যের মিশ্রণ আছে। ইতিমধ্যে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এবং উর্ধতন কর্মকর্তাদের টিম এ স্থানটি পরিদর্শন করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন এ স্থানকে ভ্রমনপিপাসুদের জন্য পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
ভবিষ্যতে এ সৈকতে ভ্রমণের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসবে বলে আশা করা যায়।
Collected


চাটখিলে ১৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিতরণ  

নোয়াখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ, পুলিশের বাধায় ছত্রভঙ্গ

নোয়াখালীতে ৯টি ক্লিনিক সিলগালা

রোববারের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরি, বেতন ৭৫০০০

কুসিক নির্বাচন : আচরণবিধি ভেঙ্গে জরিমানা গুনলো রিফাত-কায়সার

চিরনিদ্রায় শায়িত গাফ্‌ফার চৌধুরী

কবিরহাটে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা:ছোট ভাই গ্রেফতার

হাতিয়ায় দুইটি ফিসিং ট্রলার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

যে পদ্ধতিতে জুনে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

হাতিয়ায় চোরাই গরুসহ দুইজন আটক

মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে স্ট্যাটাস, পদ হারালেন ছাত্রলীগ নেতা

প্রেমের টানে ভারতীয় তরুণী ফেনীতে

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ঢাবিতে লাশ চায় বিএনপি: কাদের

এই সম্পর্কিত আরো