হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ করায় স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২


 ইসমাইল হোসেন কিরন : পাশ্ববর্তী আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন পারিবারের সবাই। বিয়েতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে আনন্দ করতে গিয়ে একজন গৃহবধুর মূখে হলুদ লাগিয়ে দেন। তা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের স্ত্রীকে সবার সামনে কিল ঘুষি মেরে বাড়ী নিয়ে আসেন স্বামী। বাড়ীতে নিয়ে আসার দুই ঘন্টা পর সেই গৃহবধু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন  বলে  শ্বশুর বাড়ীর লোকজন সবাইকে জানান। কিন্তু গৃহবধুর মা বাবার অভিযোগ তাদের মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নোয়াখালী হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কাজিরটেক গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর বুধবার রাতে নিহত গৃহবধু জীবনা আক্তারের মা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তাতে আসামী করা হয় মেয়ের জামাইসহ চারজনকে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর পূর্বে হরনী ইউনিয়নের দক্ষিন আদর্শ গ্রামের নাছির উদ্দিনের মেয়ে জীবনার সাথে বিয়ে হয় আব্দুর রহিম সদুর ছেলে মো: হোসেনের (২২)। বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাধ লেগেই আছে। একাধিকবার গ্রাম্য শালিশে তা মিমাংসা করা হয়। সব শেষে গত ১ সেপ্টেম্বর একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে জীবনাকে উত্তেজিত হয়ে বাড়ী নিয়ে যায় তার স্বামী। এই ঘটনার দুই ঘন্টা পর জীবনা আত্মহত্যা করছেন এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন এসে জড়ো হন তাদের বাড়ীতে।

হরনী ইউনিয়নের কাজিরটেক গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান জানান, বিয়ে বাড়ীতে  গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে আনন্দ করাকে কেন্দ্র করে স্বামী হোসেন তার স্ত্রীকে পিটিয়েছে। গ্রামের অনেকে তাকে তা জানিয়েছে। একই দিন বিকালে শ্বশুর বাড়ীর বসত ঘর থেকে জীবনার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

জীবনার মা পিঞ্জুরা বেগম জানান, তাদের বাড়ী থেকে জীবনার শ্বশুর বাড়ী ৫ কিলোমিটার দুরত্ব। ঘটনার দিন দুপুরের পর একজন মোবাইলে তাকে দ্রæত জীবনার শ্বশুর বাড়ী আসতে বলে। জীবনার ডাইরিয়া হয়েছে বলে জানানো হয় তাকে। সে তাদের বাড়ী এসে দেখে অনেক লোকের জমাট। ঘরের মধ্যে একটি খাটের উপর জীবনার মৃতদেহ পড়ে আছে। পরনে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে যাওয়ার পোশাক পরিহিত। আগেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোর্শেদ বাজার পুলিশ  ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য।

পরে পুলিশ তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে নিজেদের মত করে লাশের সুরুতাল রিপোট তৈরি করেন। রিপোর্ট তৈরি করা সময় শ্বশুর বাড়ীর লোকজন ছাড়া কাউকে থাকতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় পুলিশ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

তিনি আরো জানান, তার মেয়েকে এর আগেও একাধিবার পিটিয়েছে তার স্বামী। ঘটনার দিন গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় মূখে আঘাতের চিহৃ ছিল। তার দাবী তার মেয়েকে পিটিয়ে মেরে পেলা হয়েছে। পুলিশ প্রথমে অপমৃত্যু মামলা নেই। এক সপ্তাহ পর এখন হত্যা মামলা নিয়েছে।

এসব বিষয়ে জীবনরা শ্বশুর আব্দুর রহিম সদু জানান, জীবনা আত্মহত্যা করেছে। বিয়ে বাড়ীতে তার ছেলে জীবনাকে পিটিয়েছে বলে শুনেছেন। তাদের মধ্যে সামান্য মনমালন্য হয়েছে। পরে জীবনা বাড়ীতে গোসল করতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এসময় তাদের পরিবারের সবাই বিয়ে বাড়ীতে ছিল। পরে তার শাশুড়ী এসে জীবনাকে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পায়।

এই বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, এই ধরনের ঘটনা প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে ঘটনা অনুযায়ী হত্যা মামলা করা যায়। ঘটনাটি হাতিয়া থানা সদর এলাকা থেকে নদী পার হয়ে যেতে হয়। মেয়ের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে দেরি হয়েছে। পরে তারা থানায় এসে হত্যা মামলা দিলে আমরা তা আমলে নিয়ে নি। এখন ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন

হাতিয়ায় বজ্রপাতে জেলের মৃত্যু

 আটকে গেল নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন ১৯ জন

নোয়াখালীতে জেলা পরিষদ নির্বাচন: ৬০ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

এডিবি থেকে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নোয়াখালীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত,শিক্ষার্থী ৪৩হাজার

  কোম্পানীগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

লন্ডন-নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি পারভেজকে গ্রেফতারে জাসদের নিন্দা

শারমিনের গল্প : একটি সাধারণ মেয়ের আত্মকথন (পর্ব-১৬)

কাল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের সন্দেহে নোয়াখালী জাসদের সভাপতি কারাগারে

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে- সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

এই সম্পর্কিত আরো