দমারচর বাংলাদেশের নতুন সমুদ্র সৈকত

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৪

বালুকাময় দমারচর সৈকত

বালুকাময় দমারচর সৈকত

দমারচর সৈকতে সাগরের ঢেউ

দমারচর সৈকতে সাগরের ঢেউ


রফিক হাসান, নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ থেকে ফিরে ঃ

বাংলাদেশের দক্ষিণপ্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলে সম্প্রতি আরো একটি সমুদ্র সৈকত জেগে উঠেছে। সমুদ্রের বালু জমে অতি সম্প্রতি গঠিত সৈকতটি একেবারে আনকোরা, কুমারী । ইংরেজীতে যাকে বলে ভার্জিন সি বিচ। সমুদ্র সৈকতটি নোয়াখালী জিলার হাতিয়া উপজিলার নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন দমার চরের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত।

প্রায় দশ কিলোমিটার কর্দমাক্ত পথ ভেঙে মাঝে পাঁচ ছয়টা ছোট বড় খাল সাঁতরে যখন দমার চরের দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছি তখন ভর দুপুর । আমাদের সামনে মহাআরামে শুয়ে আছে এক বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত। অগ্রহায়নের প্রখর সূর্যের সোনালী আলোয় চারদিক ঝকঝক করছে । বিপুল গর্জনে একের পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে ছড়ানো সমুদ্র তটে ।

আমি বিস্ময়ে হতবাক। ভ্রম হল, আমি কি ডিসকভারী কিংবা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী চ্যানেলে এনিমাল প্লানেটের কোন অনুষ্ঠান দেখছি ! একদিকে অপূর্ব সুন্দর আর নির্জন সমুদ্র সৈকত । স্নিগ্ধ উর্মিমালা । অন্যদিকে হাজার হাজার রংবেরং এর পাখির ওড়াওড়ি, মধুর কলতান, মাঝে শতশত গরু মহিষের অবাধ-নির্বিঘœ বিচরণ। অদূরে মেঘের মত ঘন কালো বিশাল প্যারা (ম্যানগ্রোভ) বনের হাতছানি । এটা বাংলাদেশ তো ! নাকি ? আফ্রিকার কোন নির্জন প্রান্তে চলে এসেছি । মনে হল গায়ে চিমটি কেটে দেখি বাস্তব না স্বপ্ন!

বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোলে সম্প্রতি জেগে ওঠা অপূর্ব সুন্দর এই সমুদ্র সৈকতের সারা শরীরে যেন সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘ্রাণ লেগে আছে। সৈকতের ভেজা কোমল মাটিতে পা রাখতে গিয়ে বারবার কেঁপে উঠি । মনে হল সদ্য ভূমিষ্ঠ কোন শিশুর তুলতুলে নরম বুকে পা রাখছি ।

আমি আর আমার পথপ্রদর্শক আব্দুল মালেক ছাড়া নবীন এই সমুদ্র সৈকতে আর কোন জন মানুষের টিকিটি পর্যন্ত নেই । অদূরে সাগরের ঢেউয়ে একদল বিদেশী হাঁস সমুদ্রের ছোট ছোট ঢেউয়ে আপন মনে দুলছে । অনেকে ঠোঁট ডুবিয়ে মাছ খোঁজায় ব্যস্ত । কারো গায়ের রং একবারে দুধ শাদা কারো বা লাল আবার কারো শাদা কালো লালের অপূর্ব মিশেল । দূর থেকে তাদের শরীরের সবটুকু দেখা যায় না । গলায় ঝোলানো সদ্য কেনা দূরবীন দিয়ে নয়ন ভরে দেখে নিলাম মনোমুগ্ধকর এসব দৃশ্য ।

সমুদ্র সৈকতের বালুতটে ঘোরাঘুরি করছিল একদল কালো মহিষ । তাদের কেউ কেউ আমার দিকে কিছুক্ষণ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকল । নাক উঁচিয়ে বাতাসে ঘ্রান নিল । যেন তাদের অবাধ এবং মুক্ত বিচরণ ক্ষেত্রে নতুন কারো আগমন সহ্য হচ্ছে না । সন্দেহের দৃষ্টিতে আগন্তুককে চিনে নেয়ার চেষ্টা করছিল । আবার নিজ নিজ দলে ফিরে গেল । তাদের এই বিচলিত বোধ করার কারণ হিসেবে বোঝা গেল তারা সাধারণত রাখাল বালক আর কালেভদ্রে লুঙ্গিপরা দু‘একজন জেলে ছাড়া বাইরের কোন লোক দেখতে অভ্যস্ত নয়। কেননা এই নবীন সমুদ্র সৈকত এ পর্যন্ত বাইরের লোকের নজরের বাইরে থেকে গেছে ।

দমার চর বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত । এখান থেকে হাতিয়া উপজিলা সদরের দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার । নিঝুম দ্বীপের পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় দমার চর । সেখান থেকে পায়ে হেঁটে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা । অপূর্ব সুন্দর নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত এই দ্বীপটি এখনও বাইরের মানুষের এমনকি নিঝুম দ্বীপের সাধারণ জনগনেরও অজ্ঞাত ।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহরাজ উদ্দিনকে দমার চরের সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এ ব্যাপারে তার অজ্ঞতার কথা জানান । তিনি বলেন, দমার চরের দক্ষিণপ্রান্তে সাগরের পানিতে ভেসে আসা অনেক বালু জমে আছে যা দেশের অমূল্য সম্পদ। তিনি এই বালু আহরণের জন্য সরকারকে বিভিন্ন সময় অনুরোধ করেছেন বলে জানান । সরকার তার কথায় কর্ণপাত করেনি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন । ষ¦ল্প শিক্ষিত এই চেয়ারম্যানের সি বিচ বা সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই বলেই মনে হল।

হাতিয়া উপজিলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হোসেন মোঃ মঈনুদ্দিনও জানান তিনি দমার চরে কোন সমুদ্র সৈকত থাকার কথা কোন দিন শোনেননি। তিনি কোন দিন দমার চর যাননি বলেও জানান । হাতিয়ার সাপ্তাহিক ‘হাতিয়া কন্ঠে’র সম্পাদক এম দিলদার উদ্দিনও দমার চরে কোন সমুদ্র সৈকত থাকার ব্যাপারে অবহিত নন বলে জানান ।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনি দমার চরের নাম শোনেননি । তবে নিঝুম দ্বীপের কথা শুনেছেন এবং সেখানে পর্যটন স্ক্রংান্ত কিছু স্থাপনা নির্মানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে ।

আসলে এ জায়গাটি সবার অজ্ঞাতে থাকার মূল কারণ হচ্ছে এর দুর্গমতা এবং স্থানীয় জলদস্যুদের উপস্থিতি।

আশপাশের নদী সমুদ্রে যারা ডাকাতি এবং বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়ায় তারা লোক চক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য এবং পুলিশের নজর এড়াতে সহজেই এই চরের নির্জন প্রান্তের বন জঙ্গলে আশ্রয় লাভ করে থাকে। তারা অনেক সময় মূল ভূখন্ড থেকে লোকজন ধরে এখানে জিম্মি করে রাখে এবং মুক্তিপন আদায় করে । এই ভয়ে সাধারনতঃ একান্ত দায়ে না পড়লে এদিকে কেউ পা বাড়ায় না ।

নিঝুম দ্বীপের লোকজন এবং মাছ ধরতে যাওয়া লোকেরা এটাকে বলে ‘দেইলা’ বা বালুর স্তুপ। তাদেরকে আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি যে আসলে এটা একটা সমুদ্র সৈকত । যা কিনা কক্সবাজরের সমুদ্র সৈকতের চেয়েও অনেক বেশী সুন্দর এবং আকর্ষনীয় । নিঝুম দ্বীপের কিশোর ছেলেরা দমার চরে সাধারণতঃ যায় বড় আকারের কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে । জেলেরা যায় আশপাশের নদীও সমুদ্রে মাছ ধরতে । এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার সৈকতের চেয়েও বেশী আকর্ষনীয় এই কারণে যে এখানে রয়েছে পাখির একটি অভয়ারন্য । অসংখ্য পাখির পাখা ঝাপটানি আর কলকাকলি মোটামুটি সারা বছরই থাকে । তবে শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত হাজার হাজার পাখির কারণে এখানে রীতিমত পাখির মেলা বসে যায়।

দিনটি ছিল বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৩, অগ্রহায়নের ২ তারিখ । অগ্রহায়ন মাসের শুরু বিধায় অল্প সল্প শীত পড়তে শুরু করেছে। অতিথী পাখির আগমনে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জলাভূমি ইতিমধ্যেই পাখির অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। জলাভূমিতে ছোট বড় মাছ রীতিমত কিলবিল করে। এসব মাছের লোভে আসে হাজার হাজার অতিথী পাখী ।

সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের শব্দ বেশ দূর থেকে শোনা যায় । সৈকতের যে দিকটা পানি পর্যন্ত নেমে গেছে সেখানকার মাটি শক্ত ঠনঠনে। পা একদম দাবে না । হাঁটু পানি পর্যন্ত নেমে হাঁটা এবং গোসল করা যায় নির্বিঘেœ । সৈকতের উপরিভাগটায় শুকনো শাদা বালুর স্তুপ । ছড়ানো রাশি রাশি বালু একদম ঝকঝকে। এজন্যই নিঝুম দ্বীপের লোকেরা এটাকে বলে দেইলা। শাদা বালুতে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ার বিচরণ। তারা বালুতে গর্ত করে থাকে। মানুষের সাড়া পেলেই দ্রুত গর্তের ভেতরে ঢুকে যায় ।

চোখের আন্দাজে নতুন সৈকতটি লম্বায় দশ থেকে পনেরো কিলোমিটার হবে । মাঝে কিছু কিছু জায়গায় নরম মাটি আর ছোট ছোট খাল রয়েছে । ভাটির সময় এসব খাল একদম শুকিয়ে যায় । তখন হেঁটেই পার হওয়া যায় । জোয়ারের সময় খালগুলি পানিতে একদম টইটুম্বুর হয়ে যায় । এখানে আসতে আমাকে এরকম অর্ধডজন খালের বুক সমান পানি ভাঙতে হয়েছে । তবে মূল সৈকত কখনই পানিতে ডোবে না। স্থানীয়রা জানান সারা বছরই এই জায়গাটা জেগে থাকে। এমনকি বর্ষা ্ রিতুর ভরা পূর্ণিমাতেও সৈকতের উপরিভাগে পানি ওঠে না । সাইক্লোন বা জলোচ্ছাসের কথা আলাদা । স্থানীয়রা জানান একমাত্র দশ নাম্বার মহা বিপদ সংকেত ছাড়া অন্য কোন সময় তারা দেইলা বা সাগর টিলা ডুবতে দেখেননি। তারা জানান, দমার চরের বয়স অনেক হলেও এই দেইলা বা বালুর স্তুপের বয়স বেশী না । মাত্র ২০০৫ সাল থেকে এখানে বালু জমতে শুরু করে । সাগরের পানিতে বালু এসে জমতে জমতে বর্তমান রূপ লাভ করেছে ।

দমার চর যাত্রা

গত বছর জুন জুলাইয়ের দিকে আমি সর্বপ্র্রথম নিঝুম দ্বীপ যাই । সেখানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিঝুম দ্বীপের বনের হরিণ দেখা। সে সময় আমি দমার চরের কথা স্থানীয় লোকজনের মুখে শুনতে পাই। সেটা ছিল মূলতঃ জমি জমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব কলহের বিবরণ। সেসময় নিঝুম দ্বীপে ভূমিহীনদের নেতা নামে পরিচিত আব্দুল মালেক দমার চরের অনেক কথা বলেন। তিনি বলেন, সেখানে সাগরের পাড়ে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে অনেক বালুর স্তুপ । মাটিও শক্ত বলে জানান । স্বল্প শিক্ষিত মালেকের পক্ষে সমুদ্র সৈকত চেনার কথা নয়।

সেবার আমার আর দমার চর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এর মাঝে এবছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমি ভোলা যাই । সেখানে ঢাল চরের দক্ষিণপ্রান্তে তাড়–য়া দ্বীপে এ রকম একটি ভার্জিন দ্বীপের সন্ধান লাভ করি। তাড়–য়া দ্বীপের লোকজনও প্রথমে আমাকে বালুর স্তুপের কথা বলেছিল । পরে গিয়ে দেখি সেখানে গড়ে উঠেছে অসাধারণ সুন্দর একটি সমুদ্র সৈকত।

তখন থেকেই আমার মাথায় এই ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিল যে দমার চরের দক্ষিণভাগটাও সম্ভবতঃ আর একটি নবীন সমুদ্র সৈকত হবে। যা এখনও অনাবিস্কৃত রয়েছে । এরপর থেকেই সমুদ্র সৈকতটি আবিস্কারের সুযোগ খুঁজছিলাম । অফিস থেকে দু’দিনের জন্য ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা বলে ছুটি নেই। সোমবার সন্ধ্যায় এমভি ফারহান -৩ নামের তিনতলা লঞ্চে উঠে পরি হাতিয়ার উদ্দেশ্যে । পরদিন সকাল বেলা হাতিয়া নেমে একটি ভাড়া করা মোটর সাইকেল নিয়ে সোজা পৌঁছে যাই নিঝুম দ্বীপে । সেখানে গিয়ে খুঁজতে থাকি আব্দুল মালেক নামের সেই ভূমিহীন নেতাকে । অনেক খোঁজাখুজির পর সন্ধ্যার দিকে তার সন্ধান পাই। মালেকসহ পরদিন সকালে দমার চরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।

নিঝুম দ্বীপের পূর্ব দিকের ঘাট থেকে একটি মাছ ধরা নৌকার মাঝিকে একশ’ টাকা দিয়ে নদী পার করে দেয়ার অনুরোধ জানাই। মাঝি রাজী হয়ে যায় । তবে এমন এক জায়গায় নৌকা ভেড়ায় যে হাঁটু সমান কাদা। ভাটা থাকায় নদীর পানি শুকিয়ে গেছে । তীরে ভেড়ার কোন উপায় নেই । অগত্যা সেই হাঁটু সমান কাদা ভেঙে নদীর তীরে উঠতে হল । তীরে উঠে দেখতে পেলাম দমার চরের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর । ছোট ছোট সবুজ ঘাসে ভরা বিশাল খোলা মাঠ । চোখ একদম জুড়িয়ে গেল। ভুলে গেলাম হাঁটু সমান কাদা ভাঙার কষ্ট ।


চাটখিলে ১৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিতরণ  

নোয়াখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ, পুলিশের বাধায় ছত্রভঙ্গ

নোয়াখালীতে ৯টি ক্লিনিক সিলগালা

রোববারের মধ্যে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরি, বেতন ৭৫০০০

কুসিক নির্বাচন : আচরণবিধি ভেঙ্গে জরিমানা গুনলো রিফাত-কায়সার

চিরনিদ্রায় শায়িত গাফ্‌ফার চৌধুরী

কবিরহাটে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যা:ছোট ভাই গ্রেফতার

হাতিয়ায় দুইটি ফিসিং ট্রলার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

যে পদ্ধতিতে জুনে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি

নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

হাতিয়ায় চোরাই গরুসহ দুইজন আটক

মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে স্ট্যাটাস, পদ হারালেন ছাত্রলীগ নেতা

প্রেমের টানে ভারতীয় তরুণী ফেনীতে

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ঢাবিতে লাশ চায় বিএনপি: কাদের

এই সম্পর্কিত আরো