মিয়ানমারে সেনা অভিযান অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট আটক

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন।

সোমবার ভোরে শীর্ষ এসব নেতাদের আটক করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউন্ট।

তিনি বলেন, আমি জনগণকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানাই। তারা যেন আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া জানায়।

এদিকে বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেছেন, রাজধানী নেপিটো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সৈন্যরা নেমে পড়েছে। বিবিসির বার্মিস সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, নেপিটোয় টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির সামরিক বাহিনী গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশন বাতিলের দাবি জানায়।

অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। তবে সেই নির্বাচনে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভোটারদের ভোট বঞ্চিত করার সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। আর সেনাবাহিনী সমর্থিত বিরোধী জোট নির্বাচনে দাবি করে নির্বাচনে ৮.৬ মিলিয়ন ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানায়। নির্বাচন মুক্ত ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন ভোট জালিয়াতি অভিযোগ অস্বীকার করে। তবে ভোটার তালিকায় কিছুটা ত্রুটি ছিল স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ২৮৭টি অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে বলে জানায়।

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি, সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিবৃতির মাধ্যমে বাহিনীটি জানিয়েছে, দেশের ক্ষমতা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমারের ক্ষমতা এখন সেনাবাহিনীর দখলে। খবর আল-জাজিরার।

এর আগে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আটক করে সেনাবাহিনী। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে অভিযান চালিয়ে এসব নেতাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট।

গেল কয়েকদিন ধরেই সু চির বেসামরিক সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সুচির এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। তারপর থেকেই মূলত দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার শুরু। প্রথম থেকেই সেনাবাহিনী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছে।

নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনেই মূলত সোমবার ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

এনএলডির মুখপাত্র মিও নিয়ুন্ট ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সোমবার সকালের দিকে অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং বেশ কয়েকজন নেতাকে ‘তুলে নিয়ে’ যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি লোকজনকে বলব চটজলদি এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। আমি চাই সবাই আইন মেনে চলবেন। তিনি এএফপি নিউজকে বলেন, আমরা মনে করছি সেনা অভ্যুত্থান শুরু হয়ে গেছে।

সোমবার নব-নির্বাচিত সংসদের প্রথম বৈঠক হবার কথা ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী অধিবেশন স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। নিজেও আটক হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এনএলডির মুখপাত্র।

সোমবার সকালে মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদোতে কোনো ফোন সংযোগ পাওয়া যায়নি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দেশের প্রধান শহর ইয়াংগুনের সিটি হলের সামনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এনএলডির এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সু চি ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হান থার মিন্ট রয়েছেন।

গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি পার্টি ৮৩ শতাংশ আসন পায়। এই ঘটনাকে সু চির বেসামরিক সরকারের প্রতি সর্বসাধারণের অনুমোদন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় বার নির্বাচন ছিল। তবে সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ফলকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং ইলেক্টোরাল কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী নাইপিদো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া বড় শহরগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ‘টেকনিক্যাল সমস্যার’ কারণে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওর সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা, ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের আটক করে জরুরি অবস্থা জারির নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া। খবর আল-জাজিরার।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বিবৃতির মাধ্যমে বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন বা গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টা আমেরিকা প্রত্যাখান করছে। যদি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা না হয়, তাহলে আমরা অ্যাকশন নেব।

অস্ট্রেলিয়াও এই সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, তারা এই গ্রেপ্তারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন বলেছেন, আমরা সেনাবাহিনীকে আইনের শাসন মেনে চলতে আহ্বান জানায়। যেসব রাজনৈতিক নেতাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে, আমরা তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।

আ’লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকে পেটানোর অভিযোগ

৯ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার

অপশক্তি প্রতিহত করে সোনার বাংলা গড়াই ৭ মার্চের শপথ: কাদের

প্রথমবার ৭ মার্চ পালন, মুজিব বন্দনায় বিএনপি

৭ মার্চের ভাষণই প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

কে কত বড় নেতা,সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

কোম্পানীগঞ্জে একটা পাগল হইছে: সাংসদ একরাম

হাতিয়া থানার উদ্যোগে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ৭ মার্চ পালন  

কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় যুবলীগ কর্মি আটক

একদিনে করোনায় আরো ১১ মৃত্যু

নিজের ‘অপরাধের’ কথা জানালেন কাদের মির্জা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নোয়াখালীতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন

হাতিয়ায় ৭ মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা

এই সম্পর্কিত আরো