কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি, তালিকায় এগিয়ে আছেন শিরীন শারমিন

Sunday, January 22, 2023


ঢাকা : আগামী ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে আর রাষ্ট্রপতি থাকার সুযোগ নেই তার। ফলে ১০ বছর পর নতুন রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে দেশ। যদিও ২৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হবে, কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী দুই মাস আগে অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে বাকি আর ২২ দিন। এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে কে বসছেন রাষ্ট্রপতির চেয়ারে। বেশ কয়েকজন আছেন আলোচনায়। তবে এদের মধ্যে বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলগুলোর পছন্দের প্রার্থী তিনি।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা ও শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে চমক দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের টানা তিন মেয়াদে শেখ হাসিনা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংসদ এবং সবক্ষেত্রেই নারীর ক্ষমতায়নে চমক দেখিয়েছেন। তিনিই শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পরপর দুজনকে সংসদ উপনেতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্পিকার হিসেবে এর আগে দুই মেয়াদে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারপর কে এই দায়িত্ব পালন করবেন তা নিয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। অনেকেই স্পিকার হতে চেয়েছেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ড. শিরীন শারমিনকে স্পিকার করার সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী। দলের ভেতরে-বাইরে কিছুটা আলোচনা ছিল, আবদুল হামিদের জায়গায় শিরীন শারমিন কতটা শক্ত অবস্থান করবেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শিরীন শারমিন নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি স্পিকার হন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার তালিকায় শিরীন শারমিন ছাড়াও জোর আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আছেন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও বিদগ্ধ নেতা আমির হোসেন আমু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম। এর বাইরে আলোচনায় আছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

গত বুধবার সংসদ ভবনের এলডি হলে এক কর্মশালা উদ্বোধনের পর চা-চক্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন এমন প্রশ্নে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো অনেক যোগ্য লোক রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য সব তালিকায় আপনার নাম রয়েছে আপনি কি হচ্ছেন? জবাবে স্পিকার বলেন, আমি জানি না কেন আমার নাম আসছে। আমি এখানেও অনেক ভালো আছি। স্পিকার হিসেবে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো খবর নেই।

তবে স্পিকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আর ৯ বা ১০ মাসের মাথায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে সংসদের বাইরে দেশের বড় বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো এরই মধ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশন এবং এই সরকারের অধীনে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এবং তিনি সংসদ ও সংবিধান সম্পর্কে ভালো জানেন। তা ছাড়া স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার রেওয়াজ এই সংসদে অনেক রয়েছে। স্পিকার থেকেই বিএনপির সময় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। আবদুল হামিদও স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।

দলীয় শীর্ষ নেতারা মনে করেন, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের দায়িত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা দেশে বিদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। নারী রাষ্ট্রপতি দিয়ে আরেকটি রেকর্ড করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ থেকে বিএনপির সদস্যরা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। ফলে তাদের কোনো প্রার্থী থাকার সুযোগ নেই। আর সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তাদের যদি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগদলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানে সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কারণ এই রাষ্ট্রপতির আমলেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক এই পদটি নিয়ে এত আলোচনা।

নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

## যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তফসিল ঘোষণাসহ এ নির্বাচন পরিচালনা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তার সামনে নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম ও নিজের স্বাক্ষর দিয়ে জমা দিতে হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার পর সংসদ কক্ষে স্থাপিত এক বা একাধিক বাক্সে তা জমা দেবেন। একজন সদস্য একটা ভোট দিতে পারবেন। স্পিকারও এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিকসংখ্যক ভোটপ্রাপ্তই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগ পাবেন। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। আর একজন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী যদি হয়ে থাকেন, তাহলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পক্ষ থেকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একজনকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকে। ১৯৯০ সাল থেকে ২১তম রাষ্টপতি আবদুল হামিদ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদে যেহেতু আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই এবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে একাধিক প্রার্থীর নির্বাচন করার সুযোগ খুবই কম।

প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একাধিক হোক বা না হোক দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতি পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। ২০১৩ সালের ১৪ এপ্রিল তৎকালীন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পান। এর ফলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নির্ধারিত সময়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। আর সেটি অবশ্যই সংবিধান অনুযায়ী হবে। বর্তমান সরকার সংবিধানের আলোকেই সবকিছু করছে।


এলপিজির সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৬৬ টাকা বাড়ল

নোবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারের অব্যাহতিসহ আট দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

কবিরহাটে মাদরাসার নতুন ভবন উদ্বোধন

চবির ছাত্র হোস্টেল থেকে ছাত্রী আটক

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরেকটি মাইলফলক ‘পাতাল মেট্রোরেল’ : প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালীতে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার নারী

হাতিয়ায় পুলিশের শীতবস্ত্র বিতরণ

প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের বিমার দাবি পূরণে গড়িমসি

অল্প ভোটে হেরে গেলেন হিরো আলম

বগুড়া-৪ আসনে এগিয়ে হিরো আলম

নোয়াখালীতে দৈনিক গণমুক্তি’র ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

কবিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ

অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী হিরো আলম

বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ৬ শূন্য আসনে উপনির্বাচন কাল

এই সম্পর্কিত আরো