হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচন : বিএনপির দুর্বল প্রস্তুতি, চাঙ্গা আওয়ামীলীগ

বুধবার, জানুয়ারি ২০, ২০২১

আ’লীগ প্রার্থী   একেএম ওবায়েদ উল্যাহ         ও                  বিএনপি প্রার্থী   কাজী আব্দুর রহিম


ইসমাইল হোসেন কিরন : নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম এখন নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার সকল পাড়া মহল্লা। সকাল হলে বিভিন্ন পাড়ায় গড়ে উঠা ছোট ছোট চায়ের দোকানে জমে উঠে নির্বাচনকে কেন্দ্রকরে জমজমাট আড্ডা। এ ক্ষেত্রে মেয়র নয়, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশী দেখা যাচ্ছে। কারন বড় দুটি দলের দুইজন মেয়র প্রার্থী মাঠে অবস্থান করলেও আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থীর তুলনায় বিএনপির প্রার্থীর গনসংযোগ ও নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার প্রচারনায় অনেক পিছিয়ে।

হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম। তিনি ২০১৫ সালের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ১১ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে মাঠে কাজ করছেন তিনি। তার নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় মাঠে নেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক খোকন ও সাধারন সম্পাদক তানভির হায়দার রাজিব সহ গুরুত্বপূর্ন কোন নেতা। এছাড়া বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র কমিটি নেতারা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলায় স্থায়ী বসবাস করায় অধিকাংশ পদ-পদবীধারী নেতারা তাদের ব্যবসায়িক কারণে বছরের পর বছর ধরে হাতিয়ার বাহিরে অবস্থান করছেন। তারাও তাদের প্রার্থীর পাশে এসে দাঁড়ান নি। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মোবাইলে বার বার চেষ্ঠা করা হলেও পাওয়া যায়নি ঢাকায় অবস্থান করা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কাউকে। তবে কথা হয় বর্তমান বিএনপির প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী আব্দুর রহিমের সাথে। তিনি জানান, এখনো গঠন করতে পারিনি নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা কেন নির্বাচনের প্রচার প্রচারনায় অংশ নিতে আসছেনা তা তারাই ভালো জানেন।

৩০ জানুয়ারী নির্বাচন, অথচ এখনো করা হয়নি নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি। নেই কেন্দ্র ভিত্তিক বা ওয়ার্ড ভিত্তিক কোন প্রচারণা কমিটি।  মাঝে মধ্যে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রার্থী কাজি আব্দুর রহিমকে দেখা গেলেও ছাত্রদলের ৮-১০জন কর্মী ছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক কোন নেতা কর্মীকে দেখা যায়নি তার সাথে। বিএনপির মত বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এধরনরে দুর্বল নির্বাচনী কর্মকান্ডে হতাশ দলের সাধারন কর্মীরা।

এদিকে তার বিপরীত চিত্র আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ক্ষেত্রে। গঠন করা হয়েছে শক্তিশালী পৌর নির্বাচনের মূল প্রচরণা কমিটি ও ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি। এবার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এমপি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক ওয়ালী উল্যার ছেলে কে এম ওবায়েদ উল্যাহ বিপ্লব। বিপ্লবের সমর্থনে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। হাতিয়া পৌরসভায় একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসের। এই দুইজনের সমর্থনে পূর্বের দুটি পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ কে এম ইউছুফ আলী। এবার নির্বাচনে বিপ্লবের সমর্থনে কাজ করছেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও দুই দুই বারের নির্বাচিত মেয়র এ কে এম ইউছুফ আলীও।

সম্প্রতি সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউসের বাসভবনে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতি সভা হয়। এই সভায় পূর্বের মেয়র একেএম ইউছুফ আলীকে পৌর নির্বাচন প্রচারণা কমিটির আহবায়ক করে একটি কমিটি ও স্ব স্ব ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতিকে আহবায়ক করে করা হয় ৯টি ওয়ার্ড কমিটি। গত ১১ জানুয়ারী থেকে এসব কমিটি তাদের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে গনসংযোগ ও উঠান বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী কে এম ওবায়েদ উল্যাহ বিপ্লব। এছাড়াও পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে মাঠে কাজ করছে যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আওয়ামীলীগ সমর্থীত কর্মীরা।
হাতিয়া পৌর নির্বাচন সহকারি রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনের আওতায় হচ্ছে হাতিয়া পৌরসভার নির্বাচন। গত ১৪ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ১০ জানুয়ারী ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ইতিমধ্যে অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের কে এম ওবায়েদ উল্যাহ বিপ্লব ও বিএনপির কাজী আব্দুর রহিম সহ দুই জন নির্বাচনে লড়াই করছেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারন কাউন্সিলর পদে ৪০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারী এই পৌরসভায় ব্যালেটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুটি করে ভোট কেন্দ্র রাখা হয়েছে, সব মিলে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩টি । হাতিয়া পৌরসভায় নারী ১৫ হাজার ৬শত ৪৫জন, পুরুষ ১৬হাজার ৭শত ৫৩জন সহ মোট ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৩ শত ৯৮ জন।
এদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় নুর নাহার বেগম রোজিকে বেসরকারী ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সাধারন কাউন্সিলর পদে ৯নং ওয়ার্ডে অন্য প্রার্থী না থাকায় নুর হাদীকে বেসরকারী ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।


ডিএনসিসি হাসপাতালে ২ রোগীর শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট

ঈদের দিনে ঝরে গেল আরও ২৬ প্রাণ, শনাক্ত হাজারের নিচে

ভাসানচরে উৎসব মুখর পরিবেশে রোহিঙ্গাদের প্রথম ঈদ উদযাপন

খালেদা জিয়ার ঈদ সিসিইউতে

ঈদ জামাতে করোনামুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া

গৃহবন্দী ঈদ : ছিল না চিরাচরিত কোলাকুলি আর করমর্দন

দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ইদ শুভেচ্ছা

লাশের মিছিলে আরও ৩১ , শনাক্ত ১২৯০

ফেসবুকে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদের শিকার ধনাঢ্য তরুণরা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ৮৪

ফের বাড়ছে লকডাউন, বিশেষ ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ

১৭ তম বিয়ের জন্য প্রস্তুত ১৫১ সন্তানের পিতা

হোটেল রুমে নারীর সঙ্গে বাবুলকে দেখে চমকে উঠেন মিতু

কোম্পানীগঞ্জে কার্টুন দেখা নিয়ে ঝগড়া অভিমানে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা  

নোয়াখালীর তিন গ্রামে ঈদের নামাজ আদায়

এই সম্পর্কিত আরো