এম দিলদার উদ্দিনের ছোট গল্প : কাকের সাবান চুরি

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২০


 

এম দিলদার উদ্দিন

 

কাকের ডাক শুনতে কারই বা ভালো লাগে ! সারাক্ষণ কানের কাছে কা-কা শুনলে মেজাজটাই এমনিতে তিরিক্ষি হয়ে যায়। এজন্যই কাকের ডাককে বলা হয় ‘কাকস্য পরিবেদনা’। এর দেহের রঙ কালো, তবে গলার রঙ ধূসর। এদের পা ও ঠোঁট খুবই সক্রিয় ও শক্তিশালী। এরা দলবদ্ধভাবে থেকে শত্রু মোকাবেলা করে। একটি কাকের বাচ্চাকে মারা হলে দলবদ্ধভাবে অন্যান্যা কাকেরা তেড়ে আসে। বুদ্ধিমত্তার জন্য কাকের যেমন সুনাম রয়েছে তেমনি বোকা পাখি হিসেবেও পরিচিতি আছে কাকের। লোকে বলে, ওরা খাবার চুরি করে তা লুকিয়ে রাখার জন্য কাক নিজেই চোখ বন্ধ করে কোথাও গুঁজে রাখে। ভাবে, কেউ দেখেনি। কিন্তু পরে নিজেও আর তা খুঁজে পায় না। সুনাম দুর্নাম যতটুকুই থাকুক কাককে কেউ ভাল চোখে দেখেন না। কারন, কাকের সাবান চুরি, খাবার চুরি আর ছোঁ মেরে জিনিস চুরি কিংবা হাস-মুরগীর ছানা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার বদ খাসলত সবাইকে জ্বালিয়ে মারে। সবাইর যেন জানের-দুষমন এই কাক। শুধু কী তাই ! এ কাক কোন ব্যক্তিকে চরম বিপদে ফেলে দিতেও এর জুড়ি নেই। তাহলে শুনুন আমার ছাত্রজীবনে ঘটে যাওয়া বিপদে পড়ার একটি গল্প।

ছোট বেলায় গ্রামের বাড়িতে পুকুরে গোসল করা নিত্য দিনের রুটিন ওয়ার্ক ছিল। আট ইঞ্চি চওড়া ও দশ বার ফুট লন্বা দুইটা তক্তা জোড়া দিয়ে পুকুরে ঘাট তৈরী করা হতো। ঘাটের গোড়ায় দো’ডালা একটি কাঠি গেঁড়ে শুকনো কাপড় রাখা হতো। প্রায় ৪০ বছর আগের গল্প এটি। একদিন দুপুরে ঘাটে সাবানদানীতে একটি বাংলা সাবান ও একটি কসকো সাবান রেখে পুকুরে নেমে কিছুটা দূরে এক বুক পানিতে কয়েকটা ডুব দিয়ে আমি ঘাটে ফিরে এসে দেখি সাবানদানী ঠিকই আছে, সাবান দু’টো নেই। এদিক ওদিক তাকিয়ে আশপাশে কাউকে দেখছি না। সাবানগুলো গেলো কোথায় ? দূরে তাকিয়ে দেখি একটি গাছের মগডালে একটি কাক দু’পা দিয়ে সাবান চেপে ধরে ঠুকে ঠুকে কসকো সাবানটি খাচ্ছে। কি আর করা, পুকুর থেকে উপরে উঠে কয়টি ইটের ঢিলা নিয়ে কাককে টার্গেট করে ছুঁড়লাম। কাক পুনরায় সাবানটি মুখে নিয়ে উড়ে গিয়ে পাশের অন্য একটি বাড়ির উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। আমি একেবারে থ হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি, আজ ঘরে ফিরে আব্বু-আম্মুর মার খাওয়ার চেয়ে চেষ্টা করে দেখি সাবানগুলো উদ্ধার করা যায় কিনা। আমি কাকের পিছু নিলাম। হাঁপিয়ে গেলাম যেন। আমি পৌঁছার অনেক আগেই কাকটি ওই বাড়ির পুকুর পাড়ে বড় একটি গাছের ডালে গিয়ে বসে আগের মত সাবান গিলছে। পাশের ডালে আরো একটি কাক বাংলা সাবানটি খাচ্ছে। মনে হয়েছে ওরা দু’জন জুটি কাক। কাকের উদ্দেশ্যে আবার ঢিল ছুঁড়লাম। দু’টি কাকের মুখ থেকে সাবানের অবশিষ্টাংশ ওই পুকুরের মাঝ বরাবর পানিতে পড়ে যায় এবং কাকগুলো উড়ে চলে যায়। সাবান দু’টো হারিয়ে যতটা না শক পেয়েছি, তার চেয়ে আরো বেশি শক পেলাম একটা উৎকট ঝামেলার সম্মুখীন হয়ে । ওই পুকুরে কোন এক ষোড়শী স্নান করছে। ওই দিকে আমি একদম লক্ষ করি নি। কাকের উদ্দেশ্যে ছোঁড়া ঢিলটি গিয়ে পড়েছে ওই পুকুর ঘাটে সাবান মাখা অর্ধ উলঙ্গ মেয়েটির পাছায়। ধারালো ইটের আঘাতে তার চামড়া ছিঁড়ে রক্ত ঝরছে।

 

মেয়েটির চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এলো। আমি ভয়ে আধা কিলোমিটার দৌঁড়ে এসে থোড় ধরা রাজাশাইল ধান ক্ষেতে ঢুকে হামাগুঁড়ি দিয়ে জমির মাঝ বরাবর গিয়ে শুয়ে পড়ে নিজকে আড়াল করি। কানে হৈচৈ শব্দ আসছে, ‘’ধর ধর শালারে ধর। তুই এদিকে যা, আমি ওদিকে দেখছি’’। শব্দগুলো ক্রমশ: জোরালো হচ্ছে। আমার কাছেই চলে এসেছে যেন এমনটা অনুমান করলাম। আমি ভয়ে কাঁপছি, এ বুঝি ধরা পড়ে গেলাম। আমি মিয়া বাড়ির পোলা। যারা আমাদেরকে সব সময় সন্মান দিয়ে চলে আসছে এবং আমাদের কাছ থেকে জমি কিনে মেঘনার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে এসে এখানে বাড়ি করেছে আজ আমাকে হয়তো ওদের হাতেই মার খেতে হবে। আমি ধানের খেতের ভিতর একদম স্থির হয়ে শুয়ে আছি। কেউ একজন তার সাথে থাকা অপর জনকে বলছে, এত বড় বিশাল ধান ক্ষেতের মাঠ, শয়তানটাকে খোঁজে পাব বলে মনে হচ্ছে না। চল ঘরে ফেরা যাক, কাকলিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ওর পাছায় রক্ত ঝরছে, সেলাই দিতে হবে। দেরী করা ঠিক হবে না, চল।

 

কাকলি নামটি শুনে আমি আরো ভড়কে গেলাম। সে আমার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ক্লাস মেট, তার খালুর বাড়িতে থেকে সে লেখাপড়া করছে। কাকলির বাড়ি স্কুল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে রেহানীয়া গ্রামে। তাই খালুর কাছে থাকা। যাকে আমি ক্লাসে খুব পছন্দ করি, তাকেই আজ রক্তাক্ত করেছি ! গত তিন মাস থেকে কাকলিকে আমি দূর থেকে একতরপা ভালবাসছি। কখনো মুখ ফুটে বলতে সাহস করি নি। দুই একদিনের মধ্যে মনের মাঝে লুকিয়ে রাখা ভাব প্রকাশ করবো বলে ভাবছি। আজ কাকের উদ্দেশ্যে ছোঁড়া আমার একটি ইটের ফালি তাকে রক্তাক্ত করেছে। আমি নিজকে খুবই অপরাধী বোধ করলাম। আমার মনের মানুষটি যদি জানতে পারে আমিই তাকে রক্তাক্ত করেছি, তাহলে আমি তাকে মুখ দেখাবো কী করে ? আমি কী কখনো বলতে পারবো, আমি তোমাকে বড্ড ভালবাসি।

 

দীর্ঘক্ষণ ধান ক্ষেতের মাঠে কারো কোন শব্দ পাচ্ছি না। আমার অস্থিত্ব কেউ যেন বুঝতে না পারে তাই আমি পাশের দু’টো ধান গাছের গোছা তুলে আমার মাথাটা মাঝখানে রেখে চারদিকে ধান গাছ মুড়িয়ে মাথাটা সবুজ বানিয়ে ঢেকে নিয়ে একটু উপরে তুলে ধীর লয়ে চারদিকে তাকালাম, কাউকে দেখছি না। তবুও ভয় কাটছে না, এমন যদি হয় কেউ একজন লুকিয়ে আমাকে এখনো অনুসরণ করে যাচ্ছে অথবা আমাকে ধরার জন্য কেউ গোপনে অপেক্ষায় থাকতে পারে । আমি গেরিলা যোদ্ধার মত হামাগুঁড়ি দিয়ে একটি আলে উঠি। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি আলের মধ্যে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আমি হামাগুঁড়ি দিয়ে একটু একটু করে বাড়ির দিকে এগোয় , আবার কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে হামাগুঁড়ি দিয়ে বিপদসংকুল পথ পার হতে থাকি। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে আমাদের বাড়ির বড় পুকুর পাড়ের কাছাকাছি এসে উঠে দাঁড়াই। কেউ একজন যেন পিছন থেকে বলে উঠে এই শালা দাঁড়া, আজ তোর একদিন, আমার একদিন। আমি পিছনে না তাকিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে দিলাম দৌঁড়। এক দৌঁড়ে কাছারীর উঠোনে এসে ধপাস করে পড়ে গেলাম। পিছনের পথে তাকিয়ে কাউকে না দেখে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ঘাটে গিয়ে দেখি আমার শুকনো পোষাকগুলো ঠিকই আছে, হাতঘড়িটা নেই। সাবান ছাড়া গোসল সেরে ঘরে ফিরলাম।

 

পরদিন স্কুলে গিয়ে কাকলিকে না দেখে অনেকটা চিন্তিত হলাম। তিন দিন পর আমাদের টেস্ট পরীক্ষা, অথচ কাকলি আজ ক্লাসে নেই। ক্লাস জুড়ে খবর ছড়িয়েছে কাকলি অসুস্থ । নিজকে খুব অপরাধী মনে হলো। কাউকে কিছু বললাম না। আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন রনিকে প্রস্তাব দিই আমরা কাকলিকে দেখতে যাব। ক্যাপ্টেন রনি রাজি হয়ে সবাইর কাছ থেকে দশ টাকা করে চাঁদা তুলে ফল ও মিষ্টি নিয়ে স্কুল ছুটির পর কাকলিদের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উপস্থিত যারা চাঁদা দিতে পারে নি তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আমি চাঁদার টাকা হাওলাত দিয়ে সহযোগিতা করি। বিকালে আমরা ত্রিশ বন্ধু ও বান্ধবী কাকলিকে দেখতে গেলাম । কাকলি তাদের ড্রয়িং রুমে শুয়ে ব্যথায় কাঁতরাচ্ছে। ড্রয়িং রুমে আমরা প্রবেশের আগেই কাকলি উঠে বসে এবং আমাদের আগমনে তার চেহারায় হাঁসি ফোঁটে।

 

ক্যাপ্টেন রনি অসুস্থতার কারণ জানতে চায়।

 

আমি বলে উঠি, মেয়েদের অসুস্থতার কারণ জানতে নেই।

 

তবুও কাকলি আগ বাড়িয়ে বলে, কাল আমি পুকুর ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিলাম, এমন সময় কোন এক শয়তান আমার দিকে ঢিল ছোঁড়ে। ঢিল আমার মাঝায় পড়ে পিছনের চামড়া কেটে রক্ত ঝরে। তিনটা সেলাই দেওয়া লাগছে।

 

রনি বললো, তুমি তাকে দেখ নি ?

 

-আরে ! দেখার সময় কোথায় ? আমি তো ব্যথায় ও রক্ত দেখে একেবারে অস্থির। এরপর খালু ও খালা আমাকে ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে আসে।

 

বন্ধু সানু বললো, পরশু টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হবে তো ?

 

কাকলি বললো, এখনো বলতে পারছি না। সুস্থ না হলে খালু হেড স্যারের সাথে আলাপ করে বিকল্প পথ খুঁজে নেবে হয়তো।

 

রাফুল বললো, মানুষের বিপদগুলো বলে কয়ে আসে না, হঠাৎ এসে যায়। গত বছর এ দিনে আমি পুকুরে গোসল করতে যাই। হঠাৎ একটা কাক এসে আমার সাবানটি নিয়ে গাছে গিয়ে বসে। আমি সাবানটি কাকের মুখ থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে একটি ঢিল ছুঁড়ি, ঢিলটি কাকের গায়ে তো পড়লোই না, পড়েছে আমার আট বছর বয়সী ভাগ্নের মাথায়। সে কী ভয়ানক বিপদ। ভাগ্নের মাথা ফেটে যায় ও তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।

 

রাফুলের কথাটি শুনে আমার বুকে যেন ধারলো তীরের ফলা এসে আঘাত করার মত বার বার বিঁধছে। আমি নির্বাক হয়ে যাই। এ অনিচ্ছাকৃত অপরাধের জন্য আমিই তো দায়ী। ঢিলটি ওর মাথায় পড়লে হয়তো কাকলি মারাই যেত। এসব ভাবতে ভাবতে আমার চোখ মুখ কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে যায়।

 

কাকলি আমার দিকে তাকিয়ে বললো, এই দিলু তুমি এত কী ভাবছো ? কথা বলছো না যে ?

 

আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে উত্তর দিলাম, কই না তো কিছুই ভাবছি না।

 

বন্ধু সানু আমার মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে বললো, তোমার অসুস্থতায় ও যেন অন্য সবাইর চেয়ে একটু বেশিই ঘাবড়ে গেছে।

 

সানুর কথা শুনে বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই হা হা করে হেসে উঠে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে মুখ আড়ালের চেষ্টা করি। কাকলিও সানুর কথায় যেন একটু বিব্রতবোধ করে চুপ হয়ে যায়। আমি যে কাকলিকে খুব ভালবাসি এ ব্যাপারটা কেবল সানুই কিছুটা জানে। তাছাড়া কাকলিকে এখনো বলা হয় নি, কখন কীভাবে বলবো এ ভাবনায় ফেলে আসা দিনগুলো হারিয়েছি। এরই মাঝে এ বিপদটা যেন আমাকে আরো পিছিয়ে দেয়। কাকলি সুস্থ ও স্বাভাবিক না হওয়া অবধি আমি কী তাকে বলতে পারবো, ‘’আই লাভ ইউ কাকলি’’। এরই মাঝে কাকলির খালু আমাদের সমনে এলো।

 

খালু বললো, বাবারা তোমরা একটু ওয়েট কর, তোমাদের জন্য নাস্তা রেডি করছি। না খেয়ে কেউ যাবে না।

 

রাফুল বলে, না খালু আমরা এতগুলো ছেলে। আপনাদের কষ্টের মাঝে এসে আরও কষ্ট বাড়াতে চাই না। আমরা এখন উঠি।

 

খালু বার বার অনুরোধ করা সত্বেও আমরা বিনয়ের সাথে খালুর অনুরোধ প্রত্যাখান করে বিদায় নিয়ে চলে এলাম।

 

অনেক দিন গড়িয়ে গেল। এরই মাঝে আমাদের এসএসসি পরীক্ষাও শেষ হলো।  আমার মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা ভালবাসার আবেদন নিয়ে কয়েক বার কাকলির সামনে গিয়ে হাজির হয়ে সাহস হারিয়ে ফেলেছি। তাকে বার বার একাকী পেয়েও বলার সাহস পাই নি। যার নিজের সাহস নেই,, যে নিজে সব সময় ভিরু হয়ে থাকে, সে ভালবাসায় প্রাণ দিবে কোথা থেকে ? যে নিজের বুকের কষ্টের আলপনাগুলো চেপে রাখে সে কেমন করে অন্যের কাছে কীভাবে ফুটাবে নিজ আত্নার নিষ্প্রাণ ও সুপ্ত ভালবাসার বানী। আমি তেমনই একজন ব্যর্থ ও ভিরু প্রেমিক।

 

সময় গড়িয়ে যায়। আমি ইতোমধ্যে গ্রেজুয়েশন শেষ করে ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকরী নিয়েছি। এসএসসির পর ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়ার আশায় হাতিয়া ছেড়েছি। দুই ঈদের ছুটি ছাড়া হাতিয়ায় তেমন যাওয়া হতো না। কাকলির সাথে আর কখনো যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ হওয়ার সুভাগ্য কখনো হয় নি। তবুও প্রতিদিন প্রতিক্ষণে তার অষ্পষ্ট ছায়া আমার চোখের মনিকোটায় ভেসে থাকতো। ঈদে প্রথম বার হাতিয়া গিয়ে কাকলিকে খুঁজে জেনেছি সে তার খালুর বাড়ি থেকে এসএসসি শেষে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছে। তার বাবা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। সেখানেই তারা বাড়ি করে থাকছে, আর কখনো তারাও হাতিয়া যায় নি। ঢাকায় চাকরী নেওয়ার পর থেকে কখনো আমার পরিবারের পক্ষ থেকে, কখনো কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি বিয়ের প্রস্তাব এসেছে আর গিয়েছে। অধিকাংশ ফ্যামিলি হাতিয়ার যারা হাতিয়ার বাহিরে থাকে। প্রত্যেকটি বিয়ের প্রস্তাব আমার খুঁতখুঁতে মনোভাবের জন্য ভেস্তে যায়। বিরক্ত হয়ে অনেক দিন কেউ আমার জন্য আর মেয়ে দেখছেন না। আমি যেন ঝুলেই রইলাম। আমার বিয়ে নিয়ে মাতামাতি শেষ হওয়ার এক বছর পর হঠাৎ বড় দুলাভাই একটি মেয়ের প্রস্তাব নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আমাদের ভাড়া বাসায় এলেন। আম্মার রুমে ঢুকে দরজা এঁটে ফিসফিসিয়ে আম্মার সাথে আলাপ করছেন। আমি দুলাভাইকে কদমবুচি করার জন্য দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। দরজা খুলে হাসতে হাসতে আম্মার রুম থেকে বের হলেন। সালাম করতেই উনি আমাকে টেনে তুলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আমাকে শাসালেন, এবার যদি খুঁত খোঁজার চেষ্টা কর তাহলে তোমার কপালে আর কখনো বউ জুটবে না। মনে রেখ কথাটি। আমিও ভাবলাম বয়স ৩৬ পার হচ্ছে, আর কালক্ষেপণ করা মোটেই ঠিক হবে না। দুলাভাইকে জানিয়ে দিলাম, ঠিক আছে, আপনি ও আপার পছন্দ হলে আমার কোন আপত্বি নেই। আলাপ ফাইনাল করতে পারেন। দুলাভাই খুশি হয়ে বিকালে আবার চট্টগ্রাম ফিরলো। পরদিন ফোন করে আমাকে চট্টগ্রাম যেতে বললেন। আমিও রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম পৌঁছি। এখানে এসে জানলাম, আজ রাতেই বিয়ের অনুষ্ঠান। আপা-দুলাভাইয়ের বাসায়  সকল আত্মীয়-স্বজনকে দেখে খুশি হলাম। রাতে লম্বা সফর করে এসেছি তাই একটা টানা ঘুম দিয়েছিলাম। বাসায় কি হচ্ছে না হচ্ছে তার খোঁজ রাখিনি।

 

দুপুরে ঘুম থেকে উঠে স্বজনদের বিশাল আড্ডার পাশে দাঁড়ালাম। খালা এসে যখন বললেন এসো তোমার গায়ে হলুদ দিতে হবে। আমি কিছুটা লজ্জাও পেলাম। দুপুরে গায়ে হলুদ শেষে জানলাম রাতেই বিয়ের পর্ব শেষ হচ্ছে। তাই বিকালে রিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আমি আমার কয়েকজন বন্ধুকেও সঙ্গী হওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। রাতে কমিউনিটি সেন্টারে যথারীতি বিয়ের কাজ সম্পন্ন হলো। খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে খুলসিতে আপার বাসায় নিয়ে আসি। আমার ভাগ্নে ও ভাগ্নীরা সযতনে রুম সাজিয়ে নেয়। সবার জীবনে এই সজ্জিত ঘরটি নাকি অনেক প্রতীক্ষার, অনেক স্বপ্নের, অনেক আশার। ওসব ভাবনার নিকুচি করে ‘বাসরীয়’ বাসনা নিয়ে সাজানো বাসর ঘরে ঢুকলাম। আহা ! নতুন বউ কত না প্রশান্তি নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। রাত তখন বারটা। বাসর ঘরে প্রবেশের পরই দরজা লাগিয়ে দিলাম। মনে অজানা অনুভূতি। ফুলে ফুলে সাজানো ঘরটা নিজেই চিনতে পারছি না। খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ! বাতিটা নিভিয়ে দেব ভাবছিলাম। পরে ভাবলাম প্রথম পর্বটা তো পরিচয় পর্ব। বাতি নিভানো ঠিক হবে না। আলাপচারিতার শুরুতে লক্ষ করলাম বউয়ের দুচোখ জুড়ে সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভর করেছে। তাই আর কত প্রতীক্ষা ! আমি তাকে আদর সোহাগ দিয়ে ভাসিয়ে দিতে থাকলাম। এরই মাঝে তার পাছায় সেলাই করা একটি পুরাতন দাগ দেখে চমকে উঠি এবং আমার দেহখানা যেন শীতল হয়ে আসছে। বউ কিছুই বোঝার আগে আমি চুড়ান্ত পর্ব ছেড়ে আবার প্রথম পর্বে ফিরে যাই।

 

জানতে চাই, তুমি লেখাপড়া কোথায় করেছো ?

 

-আমার এসএসসি হাতিয়ায়, এইচএসসি ও ডিগ্রি চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে কমপ্লিট করেছি। এখন জনতা ব্যাংকে জব করছি।

 

এসএসসি হাতিয়ায় কথাটা শুনে আমার মনের অজান্তে গায়ের পশমগুলো দাঁড়িয়ে গেল। বিয়ের অনুষ্ঠানে বউয়ের চেহারা মোবারক পর্যন্ত ভালকরে দেখা হয়নি। কেবল নামটা জেনেছি- কাকলি। সেই অদেখা কাকলি আমার সেই ভালবাসার কাকলিই। ভালভাবে নিশ্চিত হতে জানতে চাইলাম,তুমি কী ছৈয়দিয়া হাই স্কুলের ৭৯ ব্যাচ এর সেই কাকলী ?

 

-জি, কেন, কী হয়েছে ?

 

-না কিছুই হয় নি।

 

-বাবা নৌ-বাহিনীতে চাকরী করার সুবাদে আমরা চট্টগ্রামে চলে আসি। সেই দিন স্টিমারে উঠার আগে বাতানখালীতে চাচার বাড়ির সামনে দাদার কবরটা দেখতে গিয়ে অঝোরে কেঁদেছি। এটাই হাতিয়ায় আমার শেষ কান্না। আর কখনো আমার হাতিয়ায় যাওয়া হয় নি।

 

-কেন এত কেঁদেছিলে ?

 

-দাদার কবরটাকে রাক্ষুসে মেঘনা ছিবিয়ে ছিবিয়ে গিলছে । কবরের বেশি অংশ নদীতে পড়ে গেছে। অবশিষ্ট কবরে দাদার দু’টো পায়ের হাড় দেখা যাচ্ছে। দাদা ছিলেন খুবই লম্বা, তাই হাড়গুলোও লম্বা। কী নিষ্ঠুর এ জগত। হাতিয়া দ্বীপের অসহায় মানুষের শুধু প্রাণ নিয়ে ক্ষান্ত হয় না, অবশেষে শেষ নিশানা হাড়গুলোও নিয়ে যাচ্ছ মেঘনা। শেষ চিহ্ন বলে আর কিছুই থাকে না। এসব ভাবতে ভাবতে ভাবতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। অঝোরে কেঁদেছি। এ কান্না শুধু আমার না. অভিশপ্ত হাতিয়ার হাজার হাজার এতিম, অসহায় ও ভিটে মাটি হারা মানুষগুলোর আর্তনাদে যেন প্রতিনিয়ত আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে।

 

-আসলেই আমরা হাতিয়াবাসী রাক্ষুসে মেঘনার কাছে খুবই অসহায়। এমন কোন নেতার জন্ম হয় নি, যিনি তার ক্ষমতা ও যোগ্যতায় হাতিয়ার ভাঙ্গন প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে।

 

-আমি আমার বাবাকে বলে দিয়েছি আমাদের পরিবারের আর কারো লাশ যেন হাতিয়ায় কবর দেওয়া না হয়। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর উনার লাশ হাতিয়ায় নিতে দিই নি, নদীর ওপাড়ে খাড়ির দক্ষিণে জায়গা কিনে কবর দিয়েছি। রাক্ষুসে মেঘনা যেন আত্মীয়তার বন্ধনগুলোও কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কে কোথায় চলে যাচ্ছে কেউ কারো খবরও নেওয়ার সুযোগ হয় না।

 

কাকলির চোখের কোণায় পানি দেখে আমিও কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে গেলাম, ক্ষণিকের মধ্যে বাসর ঘরের ফুলগুলোর পাঁপড়ি শুকিয়ে ঝিমিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায় । আমি কাকলিকে স্বাভাবিকে ফিরিয়ে নিতে এ প্রসঙ্গ থেকে আবার তার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বললাম,

 

-তুমি তোমার খালুর বাড়িতে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এসএসসি দিয়েছিলে তাই না ?

 

-তুমি কীভাবে জানলে এসব ?

 

-টেস্ট পরীক্ষার দুই দিন আগে তোমার পাছায় এক শয়তান ইট মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে, তিনটি সেলাই দেওয়া লাগছে।

 

কাকলি খাট থেকে নিচে নেমে একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, আরে ! তুমি এসব কীভাবে জানলে, কে বলেছে তোমাকে ?

 

-তুমি আমার দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখ, চিনতে পারছো কিনা ! আমি তোমাকে খুবই ভালবাসতাম। সাহস ছিল না, তাই বলতে পারি নি।

 

-মুখ ভর্তি দাড়ি থাকলে কী চেনা যায়! তখন নিশ্চয় গোঁফ-দাড়ি ছিল না। তুমিই তোমার পরিচয় দাও।

 

-রাগ করবে না তো ?

 

-রাগ করার তো আমি কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না।

 

-রাগ উঠার কাজ আমি করেছি, তাই বলতে সাহস পাচ্ছি না।

 

-বলো, আমি মাইন্ড করবো না, প্রমিজ।

 

-শুন তাহলে। সেই দিন পুকুর ঘাটে তোমার পাছায় ইট ছুঁড়েছিলাম আমিই। তবে সেটা ইচ্ছাকৃত নয়, অনিচ্ছাকৃতভাবে তোমার গায়ে পড়েছে।

 

-তাহলে সেই দুষ্ট ছেলেটা তুমিই ? কেন সেইদিন ঢিল ছুঁড়েছিলে ? সেই সময় আমি শরীরের উর্ধ্বাশেংর জামা কাপড় খুলে গায়ে সাবান মাখছি। লুকিয়ে লুকিয়ে এমন দৃশ্য দেখে সইতে না পেরে ঢিল ছুঁড়েছো বুঝি !

 

-একদম ঠিক না, আমি তোমাকে দেখতেই পাইনি। সাবান চোরা কাককে ঢিল ছুঁড়েছি, তা গিয়ে পড়েছে তোমার পাছায়। তোমার চিৎকার শুনে আমি বুঝতে পেরেছি ঘাটে কেউ একজন ছিল, তাই দ্রুত পালিয়ে গিয়েছি।

 

-সাবান চোরা কাককে ঢিল ছুঁড়েছি মানে ?

 

-শুন তাহলে, ওইদিন দুপুরে আমি বাংলা ও কসকো সাবান নিয়ে আমাদের দরজার বড় পুকুর ঘাটে গোসল করতে যাই.। কাকে ছোঁ মেরে আমার সাবান দু’টো নিয়ে যায়। আমি ঢিল নিয়ে ওদের পিছু নিই। তারপর………………………………………………।

 

-তাই ! এতকিছু হয়ে গেল সেইদিন। সামান্য কাক পাখী, অথচ ওদের কারনে তোমাকে ধান খেতে পালিয়ে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছিলে, আমিও রক্তাক্ত হয়েছি। তাহলে তুমি সেই দিলু  ক্লাসভর্তি এতগুলো ছেলে-মেয়ের সামনে অপলক দৃষ্টিতে তুমি আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে, তাই না ?

 

-হ্যাঁ, আমিই সেই দিলু। আমি তোমাকে খুব ভালবাসতাম। লজ্জায় মুখ ফুটিয়ে কখনো বলতে পারি নি। আমার এত বছরের স্বপ্ন আজ যেন পূর্ণতা পেয়েছে। দুলাভাই আমার কাংখিত মনের সেই আঁচলেই আমাকে বেঁধে দিয়েছে। তাই উনার প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ।

 

-আমাদের এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো না, তুমি সেই সময়ে লজ্জা ছেড়ে মুখ ফুটিয়ে যদি বলতে পারতে। তাহলে হয়তো আমাদের বিয়েটা সঠিক সময়ে হতে পারতো।

 

-তুমি কী তখন আমার প্রেমে সাড়া দিতে ?

 

-মেয়েরা আগ বাড়িয়ে সাড়া দেয় না। যেহেতু তোমার পাজরের হাঁড় দিয়ে আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেহেতু হয়তো সাড়া দিতাম।

 

-তুমি এতদিন বিয়ে কর নি কেন ?

 

-সৃষ্টিকর্তা হয়তো তোমার অপেক্ষায় আমাকে বিয়ের চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। তবে সিটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর আব্বু আমার জন্য পাত্র খুঁজছিল। এ সময় আব্বু হ্রদরোগে মারা যায়। উনার মৃত্যুর দুই বছর পর আমার জনতা ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার পদে চাকরী হয়। আমার ছোট আরো দুই ভাই ও দুই বোন। এতবড় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মেয়ে হয়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকে। ভাই-বোনদের পড়ালেখা ও অসম্পূর্ণ বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করতে অনেক সময় গড়িয়ে গেছে। তাই বিয়ের কথা কখনো ভাবতেও পারি নি।

 

-তোমাকে আমি আমার প্রেমের প্রস্তাব দেব দেব ভাবছি, এমনি সময় কাকের মুখ থেকে সাবান উদ্ধার করতে গিয়ে তোমাকে রক্তাক্ত করায় আর প্রস্তাবটা দেওয়া হয় নি। এসএসসি পরীক্ষার পরদিন তুমি কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে তারপর থেকে তোমার সন্ধান পাই নি। দুষ্ট কাক যেন আমার সাবানই চুরি করে নি, চুরি করেছে আমার ভালবাসার মানুষটিও।

 

কাকেরা সাবান চুরি করে কেন ? জান তুমি ?

 

-মনে হচ্ছে, টিভিতে কাকেরা সাবানের বিজ্ঞাপন দেখে সাবান মেখে ফর্সা হওয়ার আকর্ষণে সাবান চুরি করে নিয়ে যেতো। যখন তারা বুঝতে পারলো বিজ্ঞাপন আসলে ভুয়া, হাজার সাবান মাখলেও কাক কালোই থাকবে, সাদা হবে না। তাই এখন সাবান চুরি করা বন্ধ করে দিয়েছে ওরা! এখন তারা সাবানে ব্যর্থ হয়ে ফেয়ার এন্ড লাভলী’র দিকে নজর দিতে পারে নিশ্চয়।

 

-ফেয়ার এন্ড লাভলী কেউ পুকুর ঘাটে নিয়ে যায় না। ড্রেসিং টেবিলে থাকে ওটা। তাছাড়া ফেয়ার এন্ড লাভলীও সাবানের মত। কালোকে সাদা করতে পারে না। বরং স্কিনে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্ষতিকর এ কেমিক্যাল খেলে হয়তো কাক মারাই যাবে।

 

-আমরা এখনো সুন্দর থাকার জন্য সাবান বা ফেয়ার এন্ড লাভলী ব্যবহার করছি।

 

-সাবান বা ফেয়ার এন্ড লাভলী কাউকে ফর্সা করে না, গায়ের রং যার যেটুকু নিয়ে জন্ম তাই থাকবে। কেবল চামড়া থেকে ময়লা দূর করে।

 

-তাই ! মানুষের আগেই কাক বুঝে ফেলেছে টিভিতে প্রচারিত সাবানের বিজ্ঞাপন ভুয়া। তাই এখন সাবান চুরি করছে না।

 

-এখনো চুরি করে, পরিমানে হয়তো খুবই কম। কারন আগেকার সাবানে পশুর চর্বি ব্যবহার করা হতো। পশুর চর্বিতে কাক আকৃষ্ট হয়। প্রযুক্তির পরিবর্তনে এখন চর্বির পরিবর্তে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও এখন কাক যদি সাবান চুরিও করে তাহলেও তুমি হয়তো তা সব সময় দেখতে পাও না। এর কারন হতে পারে তোমার চরম ব্যস্ততা !

 

-হতে পারে ব্যস্ততা। তাছাড়া গ্রামে এখন যাওয়াই হয় না, কাকের সাবান চুরি দেখারও সুযোগ হয় না। মানুষের বিপর্যয়ের পূর্বাভাষ হিসেবে কাকের সংকেত দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে। কাক ডাকার সাথে স্বজনদের কারো মৃত্যুর একটি যোগাযোগ রয়েছে বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন।

 

-এটা আমি বিশ্বাস করি না। কেউ মারা গেলে নাকি কাক ডাকে। এটা যদি ঘটেও থাকে তা নিছকই কাকতালীয় বিষয়। কাক প্রতিদিনই ডাকে। মৃত্যুর সঙ্গে তার কোন যোগসূত্র থাকতে পারে না। কাকতালীয় শব্দটাও কাকের এই পূর্বাভাষ থেকে এসেছে।

 

এমনি সময় হঠাৎ দূরে কোথায়ও একঝাক কাকের ডাক শুনে সম্বিৎ ফিরে এলো। পরক্ষণে আযানের সুমধুর আওয়াজ কানে এসে বাড়ি দেয়। সারাটা রাত কাকের গল্প নিয়ে কাকলির বাসর ঘরটা মাটি করে দিলাম, যেন বাসর ঘরেও কাকের হানা। দ্বিতীয় পর্বে আর যাওয়া হলো না। কাকলি চুপটি মেরে আমার বুকের উপর শুয়ে পড়ে। ডিম লাইটের মৃদু আলোতে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। যদিও ও আমার সমবয়সী বা দুই তিন বছরের ছোটও হতে পারে, তবুও তাকে বাচ্চা বাচ্চা লাগছে। ওর চুলগুলো ফ্যানের বাতাসে মুখের ওপর এলোমেলো দোল খাচ্ছে, আমি চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে মোলায়েম ভাবে তার কপালে একটা চুমো দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে আমার বুক থেকে নামিয়ে খাট থেকে নেমে গেলাম।  বাসর ঘরের নাটকের পর্দা টেনে নামাজের প্রস্তুতি নিতে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়লাম।

সমাপ্ত

 

 

 

হাতিয়ায় ইফার শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ফাইজারের ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু

কোম্পানীগঞ্জে কলেজছাত্র অপহরণ

নতুন করোনা শনাক্ত ১৯০৮, মৃত্যু ৩৬

হাতিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ পরিবারের বসবাস

হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলী কলেজের নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা

হাতিয়ায় ছাত্রদলের পদ বঞ্চিতদের ঝাডু মিছিল

হাতিয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক Inbox

হাতিয়ায় কৃষি উপকরণ, ল্যাপটপ,সাইকেল বিতরণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচন : দলের মনোনয়ন নিয়ে চলছে তোড়জোড়

হাতিয়ায় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের ফটোসেশন

হাতিয়ায় পল্লী চিকিৎসক ফাতেমা, জীবন বদলে দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৫ পৌরসভায় নির্বাচন

লক্ষ্মীপুরের ডিসি সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত

নোয়াখালীতে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্ধে দুই কিশোরকে খুরের আঘাত

এই সম্পর্কিত আরো